
স্বাস্থ্য ডেস্ক: কিডনিতে বাসা বাঁধছে ছত্রাক। আর একবার কিডনিতে ছত্রাকের সংক্রমণ হলে এবং যথাসময়ে তা চিহ্নিত করা না গেলে শরীরের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে এ বিষয়ে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। কিডনিতে ছত্রাকের সংক্রমণের চিকিৎসা সঠিক সময়ে না হলে তা থেকে রক্ত দূষিত হওয়া, কিডনি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এমনকি, কিডনির কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
কাদের এ রোগের ঝুঁকি বেশি: ডায়াবিটিসের রোগী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, মূলত তাদের এ রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ক্যানসারের রোগী, এইডসের রোগীদের কিডনিতে ছত্রাকের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি এ বিষয়ে জানাচ্ছেন ইউরোলজিস্ট চিকিৎসকরা। সুস্থ মানুষের শরীরে এমন হওয়ার সম্ভাবনা কম।
কখন ছড়ায় কিডনির ছত্রাক: কিডনির এ ছত্রাক সে সমস্ত জায়গাতে নিশ্চিন্তে বাড়ে, যে শরীরে রোগব্যাধিকে ঠেকানোর শক্তি কম। মুশকিল হল, কোভিড পরবর্তী সময়ে বহু মানুষ, যাঁরা আগে ডায়াবিটিস বা অন্যান্য রোগে ভুগছিলেন, তাদের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনেকটা। পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, ডায়াবিটিসের রোগীরা কিডনিতে ছত্রাকের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছে বেশি। ডায়াবিটিসের রোগীদের রক্তে মিশে থাকা উচ্চমাত্রার শর্করা এবং তাদের ঝিমিয়ে থাকা রোগপ্রতিরোধ শক্তি এ ছত্রাককে বাড়তে সাহায্য করে। অনেকের ক্ষেত্রে কাঁখের অংশের ত্বকের রংও বদলে যেতে পারে। এমনকি, ত্বকের এ অংশের নরম ভাব চলে গিয়ে শক্ত হয়ে যেতে পারে। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নামের এক ধরনের ছত্রাক থেকে এমন হতে পারে।
উপসর্গ কী: কিডনিতে ছত্রাকের সংক্রমণ কতটা ছড়িয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে উপসর্গ। তবে যেগুলো সাধারণত দেখা যায়, তা হল, ১. প্রস্রাব করার সময় জ্বালা ভাব ২. বারে বারে প্রস্রাবের বেগ আসা ৩. কাঁখে ব্যথা, ৪. বমি হওয়া, ৫. জ্বর, ৬. কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণ বেশি ছড়ালে রক্তচাপ অত্যন্ত কমে যেতে পারে।
কী করা উচিত: সতর্ক থাকলে এবং আগে বুঝে চিকিৎসা করালে অ্যান্টি ফাঙ্গাল অ্যান্টি বায়োটিকসের সাহায্যে ছত্রাকের সংক্রমণের সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। যথা সময়ে চিকিৎসা করালে এ রোগ শরীরে কোন দীর্ঘ মেয়াদি প্রভাব ফেলে না। তাই সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে ডায়াবিটিসের রোগীদের আরও বেশি সতর্ক হওয়া দরকার। কোন সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার জরুরী।

