
স্বাস্থ্য ডেস্ক: দেশে বাড়ছে হামের আতঙ্ক। পূর্ণ ডোজ টিকা নেওয়ার পর অনেক শিশু আক্রান্ত হচ্ছে। মায়ের ইমিউনিটি শিশুদের রক্ষা করতে পারছে না। দেশে ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সরকারকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব কমাতে সরকার দেশব্যাপী ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুর জন্য বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। যার আওতায় প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পর অনেক শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে। এমনকি মৃত্যুবরণ করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত ন্যাশনাল ইপিআই সার্ভিল্যান্সের এক সাম্প্রতিক জরিপে এ ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে।
জরিপের ভয়াবহ তথ্য: হাম সন্দেহে ২ হাজার ৩১০ জন শিশুর ওপর চালানো জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়। এদের মধ্যে ৫৪.৭ শতাংশ শিশু কোনো টিকা গ্রহণ করেনি। ২২ শতাংশ শিশু প্রথম ডোজ (এমআর-১) নেওয়ার পর হামে আক্রান্ত হয়েছে। আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২৩.২ শতাংশ শিশুকে হামের পূর্ণ দুই ডোজ (এমআর-১ ও ২) দেওয়ার পর তাদের শরীরে হামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। নিয়ম অনুযায়ী দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পর শিশুদের হামে আক্রান্ত হওয়ার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। হামে পূর্ণ টিকা নেওয়া সত্ত্বে ১১.২ শতাংশ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া এক ডোজ টিকা নেওয়ার পর ১৭ শতাংশ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে টিকা নেওয়া ও না নেওয়া উভয় শিশু রয়েছে জরিপে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ৭৫১ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়। ৭১.৮ শতাংশ শিশু টিকা নেয়নি। এর মধ্যে ৪৯ শতাংশ শিশুর টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি। ১৭ শতাংশ শিশু এক ডোজ টিকা নেওয়ার পর আক্রান্ত হয়েছে। আর ১১.২ শতাংশ শিশু হামের পূর্ণ টিকাদান কর্মসূচি সম্পন্ন করার পর হামে আক্রান্ত হয়েছে।

চলতি বছরের চিত্র: এ বছরের প্রথম দুই মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়। জানুয়ারি মাসে ৫৫০ জন আক্রান্তের মধ্যে ১৩০ জন শিশু প্রথম ডোজ এবং ১৩৮ জন শিশু দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছিল। ফেব্রুয়ারি মাসে নিশ্চিত ও সন্দেহ ভাজন ১১শ আক্রান্তের মধ্যে ৯৫ জন প্রথম ডোজ এবং ৯৯ জন দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছিল। বাকিদের অধিকাংশের টিকা নেওয়ার বয়স হওয়ার আগে হাম হয়েছে।
বয়সের আগে আক্রান্তের হার বাড়ছে: বিগত চার বছরের তথ্যমতে, হামের টিকা নেওয়ার বয়সের (৯ মাস) আগে এবার সবচেয়ে বেশি শিশু আক্রান্ত হয়েছে। ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার ২০২৩ সালে ছিল ৬ শতাংশ, ২০২৪ সালে ১৫ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ১১ শতাংশ। কিন্তু এ বছর টিকা নেওয়ার আগে ৩৩ শতাংশ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। হামের টিকা নেওয়ার নির্ধারিত বয়স ৯ মাস হওয়ার আগে শিশুদের আক্রান্তের হার আশঙ্কাজনক বেড়ে গেছে। চলতি বছর হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৩৩ শতাংশের টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি, অর্থাৎ এদের প্রত্যেকের বয়স ৯ মাসের কম। বিগত বছরের তুলনায় ৯ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের আক্রান্তের হার এ বছর বেশি ৯ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের আক্রান্তের হার বিগত বছরের তুলনায় বেশি। ২০২৩ সালে ৬ শতাংশ, ২০২৪ সালে ১৫ শতাংশ, ২০২৫ সালে ১১ শতাংশ এবং এ বছর বিগত তিন মাসে ১৮ শতাংশ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। যাদের বয়স ৯ মাস থেকে এক বছর।
বিশেষজ্ঞদের মত: এ বছর হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৩৩ শতাংশ শিশুর টিকা গ্রহণের বয়স হয়নি। এদের প্রত্যেকের বয়স ৯ মাসের কম। একইসঙ্গে টিকা গ্রহণের পর হামে আক্রান্তের সংখ্যা কম নয়। এ তথ্য দিয়ে স্পষ্টত বোঝা যাচ্ছে। হামে আক্রান্তদের মধ্যে টিকা দেওয়া ও না দেওয়া উভয় শিশু আছে। শুধুমাত্র টিকার বিষয়কে সামনে না এনে নতুনভাবে গবেষণা করা দরকার কী কারণে হঠাৎ করে হামের প্রকোপ দেশব্যাপী এভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

