ইবোলা ভাইরাস টিকা তৈরি করেছে রাশিয়া: নতুন ধরন বুন্দিবুগিও মোকাবিলা করা যাবে

স্বাস্থ্য ডেস্ক: ভাইরাস জনিত প্রাণঘাতী রোগ ইবোলার নতুন ধরন বুন্দিবুগিও থেকে মোকাবিলায় নতুন টিকা তৈরি করেছেন রুশ বিজ্ঞানীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় এ ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার রুশ দূতাবাস। এক মাসের কিছু বেশি সময় আগে মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক (ডি আর) কঙ্গো এবং প্রতিবেশী দেশ উগান্ডায় ইবোলার প্রাদুর্ভাব ঘটে। ডি আর কঙ্গোতে প্রাদুর্ভাবের তীব্রতা অনেক বেশি। গত এক মাসে দেশটিতে ২২০ জনের মৃত্যু হয়েছে ইবোলায়। ইবোলার প্রধান শিকার মানুষ এবং প্রাইমেট গোত্রীয় বিভিন্ন প্রানী যেমন শিম্পাঞ্জি, গরিলা, ওরাংওটাং প্রভৃতি। আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর রক্ত, লালা, ঘাম, বমি, মল-মূত্র বা অন্যান্য শারীরিক তরলের সাথে সরাসরি সংস্পর্শে এলে এ ভাইরাস ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত সুঁই বা কাপড় থেকে এটি সংক্রমিত হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ, এমনকি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আচার-অনুষ্ঠানের সময় মৃতদেহের সরাসরি সংস্পর্শ থেকে ছড়াতে পারে ভাইরাসটি। ফলখেকো বাদুড়কে ইবোলার প্রাকৃতিক বাহক বিবেচনা করা হয়। এ বাদুড় নিজে ইবোলায় আক্রান্ত হয় না। শুধু ভাইরাসটি বহন করে। এ ছাড়া বনমানুষ, হরিণ ও সজারু এ ভাইরাস বহন করে এবং মানুষের শরীরে ছড়িয়ে দিতে পারে।

            রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রী মিখাইল মুরাশকোর বরাত দিয়ে সে এক্সবার্তায় বলা হয়েছে, রুশ বিজ্ঞানীরা ইবোলার নতুন ধরনকে মোকাবিলায় একটি টিকা তৈরি করেছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছে, ইবোলার বুন্দিবুগিও ধরন থেকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম এ টিকা। ইবোলা ভাইরাসের বৈজ্ঞানিক নাম অর্থোইবোলা ভাইরাস জাইরেন্স। এ পর্যন্ত ইবোলার ছয় টি ধরন বা প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে। সেগুলো হলো জাইর, সুদান, বুন্দিবুগিও, রেস্টন, তাই ফরেস্ট ও বোম্বালি। ২০১৪ সাল থেকে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঘটিয়েছে জাইর প্রজাতিটি। কঙ্গো এবং উগান্ডায় প্রাদুর্ভাবের জন্য ইবোলার যে ভাইরাসটিকে দায়ী করা হচ্ছে, সেটি বুন্দিবুগিও প্রজাতি জানা গেছে। ইবোলা ভাইরাসের প্রধান শিকার মানুষ এবং প্রাইমেট গোত্রীয় বিভিন্ন প্রানী যেমন শিম্পাঞ্জি, গরিলা, ওরাংওটাং প্রভৃতি। এটি বাহুবাহিত কোনো রোগ নয়। আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর রক্ত, লালা, ঘাম, বমি, মল-মূত্র বা অন্যান্য শারীরিক তরলের সাথে সরাসরি সংস্পর্শে এলে এ ভাইরাস ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত সুঁই বা কাপড় থেকে এটি সংক্রমিত হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির প্রত্যক্ষ ও ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে, এমনকি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আচার-অনুষ্ঠানের সময় মৃতদেহের সরাসরি সংস্পর্শ থেকে ছড়াতে পারে ভাইরাসটি।

            ইবোলার উপসর্গগুলো হলো হঠাৎ তীব্র জ্বর এবং তার সঙ্গে প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতা-ক্লান্তি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা, ডায়রিয়া ও বমি, শরীরের বিভিন্ন অংশে ফুসকুড়ি, লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়া এবং শেষ পর্যায়ে নাক, মুখ কিংবা মলদ্বার দিয়ে তীব্র অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্তক্ষরণ। সাধারণত ভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় দিন থেকে এসব উপসর্গ দেখা দেওয়া শুরু করে। বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না অন্যান্য ভাইরাসজনিত রোগের তুলনায় কম সংক্রামক ইবোলা। এ রোগে আক্রান্তদের মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি। ইবোলার চূড়ান্ত পর্যায়ে  নাক-মুখ ও মলদ্বার দিয়ে অব্যাহত রক্তপাতের জেরে মৃত্যু হয় রোগীর। এ জন্য ইবোলাকে হেমারোজিক ফিভার বা রক্তক্ষরণ জ্বরও বলা হয়।

            গড় হিসেবে ইবোলায় মৃত্যুহার ৫০ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী কঙ্গোতে সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পরিলক্ষিত হয়েছে। কঙ্গো ও উগান্ডায় প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ১৭ মে বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে জাতিসংঘের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিষয়ক অঙ্গসংগঠন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ডব্লিউএইচও জরুরি অবস্থা ঘোষণার ১০ দিনের মধ্যে ইবোলার নতুন টিকা তৈরির ঘোষণা দিল রাশিয়া। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছে, রাশিয়া যতক্ষণ পর্যন্ত টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, পিআর রিভিয়্যু প্রকাশনা ও আনুষাঙ্গিক তথ্য-উপাত্ত জমা না দিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এ টিকাকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত হবে না ডব্লিউএইচও।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *