ব্যায়াম উপকারিতা গবেষণা: কোলন ক্যানসার থেকে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা

স্বাস্থ্য ডেস্ক: ব্যায়াম করলে বাড়ে কোলন ক্যানসার থেকে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা। এমনটা বলছে আন্তর্জাতিক একটি গবেষণা। গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ব্যায়াম করলে কোলন ক্যানসার থেকে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। গবেষকরা জানাচ্ছেন, খুব বেশি ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। সাঁতার কাটা থেকে শুরু করে সালসা নাচ যেকোনো ধরনের শরীরচর্চা এ কাজে উপকারী হতে পারে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

            সংবাদমাধ্যমটি বলছে, এ গবেষণার ফলাফল ভবিষ্যতে কোলন ক্যানসার চিকিৎসার পদ্ধতি বদলে দিতে পারে। এক রকম ব্যায়াম নিয়ম অন্য কিছু ক্যানসারের ক্ষেত্রে কি জীবন বাঁচাতে সাহায্য করতে পারে কিনা যেমন স্তন ক্যানসার সেটি খতিয়ে দেখছেন গবেষকরা। গবেষণায় অংশ নেওয়া রোগীরা কেমোথেরাপির পর পর তিন বছরের একটি ব্যায়াম কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাদের লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের জন্য নির্ধারিত ব্যায়ামের পরিমাণের দ্বিগুণ করা। যেমন, প্রতি সপ্তাহে তিন থেকে চারদিন ৪৫-৬০ মিনিট ধরে দ্রুত হাঁটা। প্রথম ছয় মাস প্রতি সপ্তাহে মুখোমুখি কোচিং দেওয়া হয়, পরে তা মাসে একবারে কমিয়ে আনা হয়। গবেষণায় ৮৮৯ জন ক্যানসার রোগী অংশ নেন। তাদের অর্ধেককে ব্যায়াম কর্মসূচিতে রাখা হয়, আর বাকি অর্ধেককে শুধু স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শপত্র দেওয়া হয়। গবেষণা শুরুর পাঁচ বছর পর নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে যারা ব্যায়াম করেছেন, তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশ ক্যানসার মুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে ব্যায়াম না করা দলে এ সংখ্যা ছিল ৭৪ শতাংশ। অর্থাৎ, ব্যায়ামের ফলে ক্যানসার ফিরে আসা বা নতুন ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি ২৮ শতাংশ কমেছে। ফলাফলে আরও দেখা গেছে প্রাথমিক চিকিৎসার আট বছর পর যারা ব্যায়াম করেছেন তাদের মধ্যে মৃত্যুহার ১০ শতাংশ। আর কেবল স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ পাওয়া দলের মধ্যে মৃত্যুহার ১৭ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যায়ামকারীদের মধ্যে মৃত্যুঝুঁকি ৩৭ শতাংশ কমেছে। যুক্তরাজ্যে কোলন ক্যানসার চতুর্থ সর্বাধিক সাধারণ ক্যানসার। দেশটিতে প্রতি বছর গড়ে ৩১ হাজার ৮০০ জন এতে আক্রান্ত হন।

            কুইনস ইউনিভার্সিটি বেলফাস্টের অধ্যাপক ভিকি কয়েল বলেন, চিকিৎসা মানে শুধু ওষুধ খাওয়া না, বরং কিছু করা এ ধারণা আমাদের মনের গঠন বদলে দিচ্ছে। শরীরে হরমোন, প্রদাহ এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর ব্যায়ামের ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে।

            লিসেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. জো হেনসন বলেন, আমি নিজে দেখেছি ব্যায়ামে ক্লান্তি কমে। মানসিক অবস্থা ভালো হয়। আর শারীরিক শক্তি বাড়ে।

            ক্যানসার রিসার্চ ইউকে ক্যারোলিন গেরাহটি বলেন, এ গবেষণার ফল চিকিৎসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে সেটা সম্ভব হবে, যদি এটি বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাছে যথেষ্ট অর্থ ও কর্মী থাকে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *