পশ্চিমবঙ্গে বিধান সভা নির্বাচন: ভোটে কারচুপির অভিযোগ, পদত্যাগ করবো না মমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধান সভা নির্বাচন। টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পর এ নির্বাচনে ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাছে পরাজিত হলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী ফলাফলে কারচুপির অভিযোগ তুলে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে তিনি। আমি হারিনি তা রাজভবনে যাব না। পদত্যাগ পত্র জমা দেওয়ার কোনও প্রশ্ন ওঠে না। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পশ্চিমবঙ্গের এ নেত্রী এ কথা বলেছে।‌

            দেশটির সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের এ অনড় অবস্থানের ফলে রাজ্যে নজির বিহীন এক সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট নিরসনের দায় রাজ্যপাল আর এন রবির ওপর বর্তাতে পারে এ ধারণা করা হচ্ছে। সোমবার নির্বাচনী ফলাফলে পরাজয়ের ইঙ্গিত পাওয়ার পরপর এক জরুরি ভিডিও বার্তায় বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করার অঙ্গীকার করেছিল পশ্চিমবঙ্গের এ মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেছে, নির্বাচনে তিনি হারেননি, বরং বিজেপি ‘লুটপাটের’ মাধ্যমে ফল ছিনিয়ে নিয়েছে।

            কী ঘটবে এখন: মমতার এ সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সম্ভাবনা তৈরি হলেও ভারতের নির্বাচন কমিশন সূত্র বলছে, রাষ্ট্রপতি শাসন জারির প্রয়োজন নাও হতে পারে। বিধান সভার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যদি বিজয়ী দল সরকার গঠনের দাবি জানায় এবং রাজ্যপাল তাদের আমন্ত্রণ জানান তাহলে সরকার গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গ বিধান সভার বর্তমান মেয়াদ আগামী ৭ মে শেষ হচ্ছে। ফলে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া গুছিয়ে নিতে বিজেপির হাতে আর মাত্র দুই দিন সময় আছে।

            ভোট লুটের অভিযোগ মমতার: গতকাল ভবানীপুর আসনে নিজের একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বর্তমানে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়ার পর মমতা অভিযোগ করেছে। এ নির্বাচনে অন্তত ১০০ টি আসন চুরি করা হয়েছে। তিনি একে ‘লুট, লুট এবং লুট অভিহিত করেন। সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ এনে মমতা বলেছে, কমিশন ‘নোংরা খেলা’ খেলছে। তৃণমূলের আসল প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি নয়, বরং নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে মমতা বলেছে, এভাবে তারা মহারাষ্ট্র, হারিয়ানা, বিহার এবং এখন বাংলা থেকে নির্বাচন চুরি করেছে। গণতন্ত্রের সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ৭১ বছর বয়সী এ নেত্রী বলেছে, বিচার বিভাগ যখন সক্রিয় থাকে না, নির্বাচন কমিশন যখন পক্ষপাতদুষ্ট হয় এবং সরকার যখন একদলীয় শাসন চায়, তখন বিশ্বের কাছে একটি ভুল বার্তা যায়।

            মমতা বলেছে, একটি ভোটকেন্দ্রে তাকে শারীরিক হেনস্তা করা হয়েছে। যে কারণে গতকাল তিনি সংবাদ মাধ্যমের সামনে আসতে পারেননি। আমার পেটে ও পিঠে লাথি মারা হয়েছে। সিসিটিভি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং আমাকে গণনা কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। একজন নারী আমার সঙ্গে অভব্য আচরণ করা হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী যদি এমন আচরণ করে, তাহলে আমার আর কিছু বলার নেই। এর আগে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার দেখেছি, কিন্তু এমনটা কখন দেখিনি। ইনডিয়া জোটের নেতারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। এ ছাড়া তৃণমূলের ওপর হামলা ও কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা তদন্তে পাঁচজন সংসদ সদস্যের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয় তিনি।

                মমতার পাশে রাহুল গান্ধী: রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের ঘোর বিরোধী হলে নির্বাচনের পরপর মমতার পাশে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিজেপিকে ‘ভোট চোর’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, কংগ্রেসের কেউ এবং অন্যান্যরা তৃণমূলের হারে খুশি হতে পারে। কিন্তু তাদের বুঝতে হবে, আসাম ও বাংলার জনমত চুরি করা ভারতীয় গণতন্ত্র ধ্বংসের লক্ষ্যে বিজেপির বড় একটি পদক্ষেপ। ক্ষুদ্র রাজনীতি ভুলে এটি ভারতের স্বার্থে দেখা উচিত। এর আগে, মমতার ১০০ আসন চুরির দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে রাহুল বলেছিলে, নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় বিজেপি আসাম ও বাংলায় ভোট চুরি করেছে। মধ্যপ্রদেশ, হারিয়ানা, মহারাষ্ট্র ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের মতো একই কৌশল এখানে প্রয়োগ করা হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *