চীন সফরে গেল ট্রাম্প: শির সঙ্গে অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে-ট্রাম্প, তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সংঘাত হতে পারে-শি জিনপিং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বহুল প্রতীক্ষিত চীন সফর শুরু করেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১২ মে) তিনি চীনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। ১৩ মে থেকে আগামী ১৫ মে পর্যন্ত দেশটিতে অবস্থান করবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার এ সফরটি আরও আগে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়িত হওয়ায় ট্রাম্পের বেইজিং সফর পিছিয়ে যায়। যুদ্ধ এখন পর্যন্ত থামেনি। এরআগে তিনি তার এ রাষ্ট্রীয় সফর শুরু করেছে। গত ৯ বছরের মধ্যে প্রথম কোন ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বর্তমানে চীনে অবস্থান করছে ট্রাম্প।

            পর্যবেক্ষক সংস্থা এশিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চীন বিষয়ক শীর্ষ উপদেষ্টা কুর্ট কাম্পবেল বলেছে, এটি উল্লেখযোগ্য যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন (যুদ্ধ চলা) অবস্থায় চীনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছে। সঙ্গে এও বলা যায় চীন এমন অবস্থায় যে তাকে স্বাগত জানাচ্ছে এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক। চীন এবং ইরান দুটি মিত্র দেশ একই সঙ্গে বাণিজ্যিক অংশীদার। চীনের এ মিত্রর ওপর যুক্তরাষ্ট্র টানা ৪০ দিন বোমাবর্ষণ করেছে। এ ছাড়া ইরানি বন্দরগুলোতে এখন নৌ-অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। তা সত্ত্বে ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় সফরটি এগিয়ে গেছে। এত কিছু সত্ত্বে ট্রাম্পের চীন যাওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত করছে তার এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে হতে যাওয়া বৈঠকে মধ্যে দুই দেশেরই স্বার্থ জড়িত রয়েছে।

            বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনাকে অত্যন্ত ইতিবাচক অভিহিত করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীন সফরের প্রথম পূর্ণ দিবসে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় ভোজ সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় এ মন্তব্য করে। গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, দিনভর চীনা প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা এবং বৈঠক হয়েছে। বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এ শীর্ষ সম্মেলনকে অত্যন্ত ইতিবাচক আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি আগামী সেপ্টেম্বরে তাকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে ট্রাম্প।

            ট্রাম্প বলেছে, প্রেসিডেন্ট শি, আপনার এ চমৎকার অভ্যর্থনার জন্য আবারও ধন্যবাদ। আপনাকে এবং মাদাম পেংকে (চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লিউয়ান) আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণ জানাতে পেরে আমি গর্বিত। আমরা আপনাদের অপেক্ষায় থাকব। এটি অত্যন্ত বিশেষ এক সম্পর্ক। আজ আমাদের মধ্যে যেসব বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয় দেশের জন্য কল্যাণকর। আমেরিকান ও চীনা জনগণের সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্রের জন্মলগ্ন থেকে বিদ্যমান এ মন্তব্য করে ট্রাম্প। দুই দেশের মধ্যে কঠোর পরিশ্রম, সাহস ও সাফল্যের মতো অনেক অভিন্ন মূল্যবোধ রয়েছে। আমরা দুই দেশ ঐক্যবদ্ধ থাকলে বিশ্ব এক অনন্য রূপ পায়।

            তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সংঘাত হতে পারে এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি এ টিকে ‘যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু অভিহিত করেছে। এ সময় তিনি ট্রাম্পকে এমন সতর্কতা দেয়। তাইওয়ান চীনের পাশে অবস্থিত। চীন দাবি করে এটি তাদের অংশ। তাইওয়ানকে এক সময় একীভূত করা হবে দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে বেইজিং। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে চীনের অংশ কাগজে কলমে স্বীকৃতি দেয়।

            চীনের সরকারি সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট শি বলেছে, যদি তাইওয়ান ইস্যু ভালোভাবে সামলানো হয় তাহলে দুই দেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকবে। কিন্তু যদি এটি যথাযথভাবে সামলানো না হয় তাহলে দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব এমনকি সংঘাত হতে পারে। এটি পুরো চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে খুব ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে। এ ছাড়া তাইওয়ান যে স্বাধীন দেশ হতে চায় সেটি তাইওয়ান প্রণালির স্থিতিশীলতার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক এ মন্তব্য করে শি। আর তাইওয়ান প্রণালির স্থিতিশীলতা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র এটি জানায় চীনা প্রেসিডেন্ট।

সূত্র: এনপিআর, বিবিসি, এএফপি, আনাদোলু।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *