ইরানে সামরিক আগ্রাসনে আমেরিকা ও ইসরায়েল: ইরানে নতুন হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, মার্কিন বিমানঘাঁটিতে পাল্টা হামলা ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের কৌশলগত বন্দর নগরী বান্দর আব্বাসের একটি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, তাদের বাহিনী হরমুজ প্রণালীর আশেপাশে হুমকি সৃষ্টিকারী চারটি ইরানি ড্রোনও ভূপাতিত করেছে। এর আগে গত মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানে বিমান হামলা চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনী। অর্থাৎ তিন দিনের মধ্যে দ্বিতীয় বারের মতো মার্কিন হামলা চালানো হলো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধ শেষ করার জন্য দীর্ঘ আলোচনার মধ্যে এ হামলাগুলো চালানো হলো।

            এদিকে বুধবার মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছে, ইরান প্রায় নিঃশেষিত অবস্থায় আলোচনা চালাচ্ছে এবং তিনি জোর দিয়ে বলেছে, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে তার যুদ্ধ কৌশল প্রভাবিত হবে না। হয়তো আমাদের ফিরে গিয়ে এটি (যুদ্ধ) শেষ করতে হবে, হয়তো করতে হবে না, বলেছে ট্রাম্প।

            অপরদিকে ইরানের বন্দর আব্বাসে মার্কিন নৌবাহিনীর বোমা বর্ষণের জবাবে কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নিজে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

            আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বন্দর আব্বাসে মার্কিন বাহিনীর আগ্রাসী আক্রমণের জবাব দিতে মধ্যপ্রাচ্যের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা করা হয়েছে। যে ঘাঁটি থেকে বন্দর আব্বাস লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন ছুড়েছিল মার্কিন সেনারা, সেটিতে হামলা হয়েছে। ওয়াশিংটন যদি ফের হামলা চালায়, তাহলে পরবর্তী জবাব আরও নিখুঁত ও সিদ্ধান্তমূলক হবে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে আইআরজিসির বিবৃতিতে। বন্দর আব্বাসে মার্কিন বাহিনীর বোমা বর্ষণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভোর ৪ টা ৫০ মিনিটে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।

            গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ইসরায়েল ও আমেরিকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর ইরানে ব্যাপক আকারে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ সামরিক অভিযান শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল। পারমাণবিক স্থাপনা ধংস, ক্ষেপনাস্ত্র সক্ষমতা গুড়িয়ে দেয়া, দেশের সরকার ও শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে আমেরিকা ও ইসরায়েল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে এ যৌথ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিতিশীল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ হামলার প্রতিশোধে ইরান অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪ শুরু করে ইতোমধ্যে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে ২৭ টি মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।

সূত্র: বিবিসি, এএফপি

 

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *