
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা যে সব দেশ মেনে চলবে, হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় সে সব দেশকে সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে এ হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানি সেনাবাহিনী। রোববার ইরানের সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা মোহাম্মদ আকরামিনিয়া এ হুঁশিয়ারি দিয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য তেহরান কর্তৃপক্ষকে কোন ধরনের অর্থ না দেওয়ার জন্য জাহাজগুলোর প্রতি সতর্কতা জারি করে ওয়াশিংটন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা চলছে। এ জলপথে জাহাজ চলাচলে ইরানের আরোপ করা বিধি-নিষেধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘে একটি প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি খসড়া প্রস্তাবটি দেখার সুযোগ পেয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেছে, যে সব দেশ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করবে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় তারা নিশ্চিতভাবে সমস্যার সম্মুখীন হবে। আমরা হরমুজ প্রণালিতে একটি নতুন আইনি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছি। এখন থেকে যে কোন জাহাজ এ পথ দিয়ে পার হতে চাইলে অবশ্য আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। এ নতুন ব্যবস্থা ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ইরান অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিকভাবে লাভবান হবে।
এর আগে, শনিবার ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে একই ধরনের হুঁশিয়ারি দেন। বাহরাইনের মতো ক্ষুদ্র রাষ্ট্র ও সব সরকারকে আমরা সতর্ক করছি যে, যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রস্তাবের পক্ষে দাঁড়ালে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। হরমুজ প্রণালি একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবন রেখা নিজেদের জন্য এ পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নেবে না।
গত মাসে ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজিবাবাই বলেছিল, এ প্রণালি ব্যবহারের ওপর আরোপিত শুল্ক থেকে তেহরান প্রথম বারের মতো রাজস্ব আয় করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ইসরায়েল ও আমেরিকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর ইরানে ব্যাপক আকারে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ সামরিক অভিযান শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল। পারমাণবিক স্থাপনা ধংস, ক্ষেপনাস্ত্র সক্ষমতা গুড়িয়ে দেয়া, দেশের সরকার ও শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে আমেরিকা ও ইসরায়েল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে এ যৌথ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিতিশীল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ হামলার প্রতিশোধে ইরান অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪ শুরু করে ইতোমধ্যে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে ২৭ টি মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
সূত্র: এএফপি।

