
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার আর কোনো পরিকল্পনা ইরানের নেই জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার (২০ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঈসমাইল বাঘেই এ তথ্য জানিয়েছে।
মুখপাত্র ঈসমাইল বাঘেই বলেছে, গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধ বিরতি কার্যকর হয়। কিন্তু প্রথম থেকে এটি ভঙ্গ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যা মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানকে জানিয়েছে তারা। বাঘেই আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র সর্বপ্রথম নৌ-অবরোধ আরোপ করে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে। এর আগেও আলোচনা চলার সময় যুক্তরাষ্ট্র হামলা করেছিল। যা তারা ভুলেননি। মার্কিনিদের সঙ্গে আর আলোচনা না হলে তারা জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে যাবেন বলে উল্লেখ করেন বাঘেই। তিনি সতর্কতা দিয়ে বলেন, যদি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে যুদ্ধ শুরু করতে চায়। তাহলে তাদের সশস্ত্র বাহিনী সে অনুযায়ী জবাব দেবে।
বাঘেই বলেছে, গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যখন প্রথম দফার আলোচনা হয় তখন ইরান তার ১০ দফা উত্থাপন করে। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি নিরাপদ ছিল। লেবাননের কথা উল্লেখ করে এ ইরানি কূটনীতিক বলেন, যুদ্ধবিরতিতে লেবানন যুক্ত থাকবে মার্কিনিদের সঙ্গে তাদের এমন চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু তারা এটি অস্বীকার করে। এমনকি পাকিস্তান সরাসরি ঘোষণা দেওয়ার পর। এদিকে ইরান আলোচনায় না বসার ইঙ্গিত দিলে পাকিস্তান আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে কড়া নিরাপত্তা আরোপ করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ইসরায়েল ও আমেরিকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর ইরানে ব্যাপক আকারে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ সামরিক অভিযান শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল। পারমাণবিক স্থাপনা ধংস, ক্ষেপনাস্ত্র সক্ষমতা গুড়িয়ে দেয়া, দেশের সরকার ও শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষে সামরিকে আগ্রাসন শুরু করে আমেরিকা ও ইসরায়েল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে এ যৌথ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিতিশীল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ হামলার প্রতিশোধে ইরান অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪ শুরু করে ইতোমধ্যে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে ২৭ টি মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
সূত্র: আল জাজিরা।

