ইরানে সামরিক আগ্রাসনে আমেরিকা ও ইসরায়েল: যুদ্ধ বিরতিতে সম্মত, স্থায়ী যুদ্ধাবসানের ইরানের ১০ শর্ত, ইসলামাবাদে মার্কিন সাথে সংলাপে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো ইরান যুদ্ধ বিরতিকে বড় বিজয় উল্লেখ করেছে। মঙ্গলবার রাতে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা ইরানিয়ান সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের এক বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়েছে। বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, ইরানিদের লক্ষ্য করে অবৈধ, কাপুরুষোচিত এবং অপরাধমূলক যুদ্ধের জন্য শত্রুপক্ষ ইতোমধ্যে তর্কাতীত, ঐতিহাসিক এবং বিধ্বংসী পরাজয় ভোগ করা শুরু করেছে। মার্চে ইরানকে ১৫ পয়েন্টের একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল প্রেসিডেন্ট। ইরান সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে পরে তিনি সেটির একটি সংশোধিত সংস্করণ পাঠায়। ইরান সে প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দুই সপ্তাহ যুদ্ধ বিরতির পক্ষে মত দেয়।

তবে এর আগের দিনগুলোতে ইরানকে ব্যাপক হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

            যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলায়েলের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসানের জন্য ১০ টি শর্ত দিয়েছে ইরান। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে ইতোমধ্যে এসব শর্ত যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠানো হয়েছে। এ শর্তগুলো হলো

ক) উভয়পক্ষ আগ্রাসন-বিরোধী নীতি অনুসরণ করবে এবং ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মেনে নিতে হবে।

খ) হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে থাকবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবং বিদেশি জাহাজগুলোকে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে হবে।

গ) লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ সকল রণাঙ্গণে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে।

ঘ) মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করে দিতে হবে এবং এসব ঘাঁটির মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার করতে হবে।

ঙ) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং বোর্ড অফ গভর্নরস এর সকল প্রস্তাব বাতিল বাতিল করতে হবে।

চ) সর্বসম্মত শর্ত অনুসারে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে একটি নিরাপদ ট্রানজিট প্রোটোকল প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

ছ) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

জ) ইরানের ওপর থেকে প্রাথমিক ও মধ্যম পর্যায়ের যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।

ঝ) জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ পরিষদ আইএইএ বোর্ড অব গভর্নরদের যাবতীয় প্রস্তাব বাতিল করতে হবে।

ঞ) বিদেশ ইরানের যত সম্পদ ও সম্পত্তি আছে, সেসবের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে হবে।

            মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে বসতে ইরানের সরকারি প্রতিনিধিদের আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে আসার যে আমন্ত্রণ জানিয়েছে পাকিস্তান, তা গ্রহণ করেছে তেহরান। সে অনুযায়ী আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে যাচ্ছেন ইরানের প্রতিনিধিরা। এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল।

            এ বৃতিতে কাউন্সিল বলেছে, যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের উদ্দেশ্য অর্জনের পর ইরান দুই সপ্তাহের জন্য আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। সংলাপের জন্য ইসলামাবাদের যাওয়ার মানে এ নয় যে যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে। চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি নির্ভর করছে ইরানের শর্তগুলো কতখানি রক্ষা করা হচ্ছে তার ওপর।

            এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করার কিছু সময় পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দুই দেশের প্রতিনিধিদের ইসলামাবাদে আসার আমন্ত্রণ জানায়। ইসলামাবাদে সংলাপ শুরুর দিন হিসেবে ১০ এপ্রিল শুক্রবারকে প্রস্তাব করে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান উভয়ে পাকিস্তানের এ প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে।

            গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ইসরায়েল ও আমেরিকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর ইরানে ব্যাপক আকারে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ সামরিক অভিযান শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল। পারমাণবিক স্থাপনা ধংস, ক্ষেপনাস্ত্র সক্ষমতা গুড়িয়ে দেয়া, দেশের সরকার ও শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষে সামরিকে আগ্রাসন শুরু করে আমেরিকা ও ইসরায়েল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে এ যৌথ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিতিশীল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ হামলার প্রতিশোধে ইরান অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪ শুরু করে ইতোমধ্যে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে ২৭ টি মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।

সূত্র: গালফ নিউজ, এএফপি, দ্য হিন্দু, আনাদোলু এজেন্সি

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *