ইরানে সামরিক আগ্রাসনে আমেরিকা ও ইসরায়েল: যুদ্ধ শেষ করতে ১৫ দফার প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র, ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ও যুদ্ধ বন্ধে ৫ শর্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, প্রস্তাবটি পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানে পৌঁছানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী এ প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং হরমুজ প্রণালী এর সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নির্দিষ্ট কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে। এদিকে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এর হামলা এবং ইরানের পাল্টা আক্রমণের মধ্য দিয়ে সংঘাত এখন চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে। বিমান হামলা, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র পাল্টাপাল্টি ব্যবহারে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৈশ্বিক তেলের বাজার ও বিমান চলাচলে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

            কূটনৈতিক সূত্র বলছে, সৈয়দ আসিম মুনির এ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা রাখছে। ইসলামাবাদ উভয়পক্ষ রাজি হলে সরাসরি আলোচনার আয়োজন করতে প্রস্তুত এ ইঙ্গিত দিয়েছে।

            মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছে, তেহরানের সঙ্গে খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তিনি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। ইরান সরাসরি এ দাবি অস্বীকার করেছে। তেহরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছে, তারা বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মাধ্যমে বার্তা পেলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সরাসরি আলোচনা হয়নি।

            বিশ্লেষকদের মতে, ১৫ দফার এ প্রস্তাব সংঘাত নিরসনের একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক পথ খুলে দিলে, তা বাস্তবায়ন নির্ভর করছে ইরানের সম্মতি, ইসরায়েলের অবস্থান এবং চলমান সামরিক পরিস্থিতির ওপর। সব মিলিয়ে, যুদ্ধের মাঝে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লে, সমাধান এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

            অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ও যুদ্ধ বন্ধে ৫ শর্ত ইরানের: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত  চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। যুদ্ধ কখন এবং কীভাবে শেষ হবে তা কেবল ইরানের নিজস্ব শর্ত ও সময়সূচি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে এটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে তেহরান। ইরানের জ্যেষ্ঠ এক রাজনৈতিক-নিরাপত্তা কর্মকর্তা দেশটির সংবাদ মাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছে।

            ইরানের কর্মকর্তা বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধের সমাপ্তি নির্ধারণ করার সুযোগ দেবে না ইরান। ইরান যখন মনে করবে এবং তার নিজস্ব শর্তগুলো যখন পূরণ হবে, তখন এ যুদ্ধ শেষ হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শত্রুর ওপর চরম আঘাত হেনে প্রতিরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন করে হামলা শুরুর কয়েক দিন আগে জেনেভায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার আলোচনায় দেওয়া তেহরানের সব দাবির সঙ্গে এসব শর্ত যুক্ত হবে। সব শর্ত মেনে নেওয়া হলে কেবল যুদ্ধবিরতি সম্ভব  ইরান সব মধ্যস্থতাকারীকে জানিয়ে দিয়েছে। যুদ্ধ বন্ধে ৫ শর্ত হল • যুদ্ধ অবসানে ইরানের পাঁচ শর্ত। • শত্রুপক্ষকে ‌‘আগ্রাসন ও গুপ্তহত্যা’ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। • ইসলমি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর যাতে পুনরায় যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। • যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ প্রদানের নিশ্চয়তা দিতে হবে। • অঞ্চলের সব ফ্রন্টে এবং লড়াইয়ে যুক্ত থাকা সব প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সঙ্গে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে হবে। • হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের চর্চাকে স্বাভাবিক ও আইনি অধিকার স্বীকৃতি দিতে হবে। যা অন্য পক্ষের প্রতিশ্রুতি পালনের নিশ্চয়তা কাজ করবে।

            গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ইসরায়েল ও আমেরিকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর ইরানে ব্যাপক আকারে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ সামরিক অভিযান শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল। পারমাণবিক স্থাপনা ধংস, ক্ষেপনাস্ত্র সক্ষমতা গুড়িয়ে দেয়া, দেশের সরকার ও শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষে সামরিকে আগ্রাসন শুরু করে আমেরিকা ও ইসরায়েল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে এ যৌথ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিতিশীল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ হামলার প্রতিশোধে ইরান অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪ শুরু করে ইতোমধ্যে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে ২৭ টি মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।

সূত্র: আনাদোলু, প্রেস টিভি।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *