ইরানে সামরিক আগ্রাসনে আমেরিকা ও ইসরায়েল: মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং কুয়েতে অবস্থিত তিনটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে কয়েক দফায় হামলা চালানোর দাবি জানিয়েছে ইরান। শনিবার ইরানের নৌবাহিনী এ অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে এসব হামলা চালিয়েছে। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডবাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ-প্রধান অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরির বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদ মাধ্যমের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

            সংবাদ মাধ্যমের বলা হয়েছে, এ অঞ্চলের তিনটি সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর ওপর পরপর কয়েক দফায় হামলা চালিয়েছে ইরানের নৌবাহিনী। আবুধাবির আল-ধাফরা, কুয়েতের আল-আদিরি এবং বাহরাইনের শেখ ঈসা ঘাঁটিতে এ হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট রাডার ব্যবস্থা, যুদ্ধবিমান এবং বিমানের জ্বালানি মজুত রাখার ট্যাঙ্ক ছিল এ হামলার লক্ষ্যবস্তু। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজে প্রকাশিত বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাসিন্দাদের সতর্ক করে দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। একই সঙ্গে আমিরাতের জনবহুল সব এলাকায় সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বন্দর, ডক এবং মার্কিন সামরিক স্থাপনা থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার জন্য বাসিন্দাদের আহ্বান জানিয়েছে আইআরজিসি।

                এদিকে, ইরানের খারগ দ্বীপে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সব গোপন আস্তানাকে বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার হুমকি দিয়েছে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। দ্বীপে হামলার পর আমিরাতে গোপনীয় সব মার্কিন আস্তানা এখন আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং ভূখণ্ড রক্ষার বৈধ অধিকার সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন শহরে আশ্রয় নেওয়া মার্কিন শত্রু, তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের উৎসস্থল, ব্যবহার করা বন্দর ও ডক এবং মার্কিন সৈন্যদের আস্তানাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে আইআরজিসি।

            গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ইসরায়েল ও আমেরিকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর ইরানে ব্যাপক আকারে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ সামরিক অভিযান শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল। পারমাণবিক স্থাপনা ধংস, ক্ষেপনাস্ত্র সক্ষমতা গুড়িয়ে দেয়া, দেশের সরকার ও শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষে সামরিকে আগ্রাসন শুরু করে আমেরিকা ও ইসরায়েল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে এ যৌথ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ হামলার প্রতিশোধে ইরান অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪ শুরু করে ইতোমধ্যে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে ২৭ টি মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।

সূত্র: এএফপি।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *