
বিশেষ খবর ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মাঝে কৌশলগত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশ ও ছয়টি দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ তথ্য জানিয়েছে। কিছু বন্ধুরাষ্ট্র ও বিশেষ অনুমোদিত দেশের জাহাজের চলাচলের জন্য এ জলপথ উন্মুক্ত থাকবে। ইরানের এ বন্ধুরাষ্ট্রের তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, চীন, রাশিয়া, ইরাক ও পাকিস্তানের নাম রয়েছে। এ অবরোধ শুধু শত্রু ভাবাপন্ন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের ওপর প্রযোজ্য হবে। অশত্রু কিংবা মিত্র ভাবাপন্ন দেশগুলোর জাহাজকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারে কোন বাধা দেওয়া হবে না। মিত্র দেশগুলোর জাহাজে হামলা না করলে হরমুজে এসব দেশের জাহাজ চলাচলে কিছু নিয়ম জারি করেছে ইরান। এর মধ্যে প্রধান নিয়মটি হলো হরমুজে প্রবেশের আগে অবশ্য ইরানের সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে ইরানি সংবাদ মাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে ইচ্ছুক সব বিদেশি জাহাজকে অবশ্য টোল দিতে হবে। এমন একটি আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরানের পার্লামেন্ট। ইতোমধ্যে সে আইনের খসড়া তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
আব্বাস আরাগচি বলেছে, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। সেখানে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। হরমুজে নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের জন্য ইতোমধ্যে অনেক রাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং অনুরোধ জানিয়েছে। তাদের মধ্যে অনেক দেশকে আমরা মিত্র বিবেচনা করি। আপনারা খবরে দেখেছেন, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক এবং ভারত… কয়েক রাত আগে ভারতের দুটি জাহাজ এখান দিয়ে গেছে এবং আরও কিছু দেশ, এমনকি বাংলাদেশ, আমার বিশ্বাস। এ সব দেশ আমাদের সাথে কথা বলেছে ও সমন্বয় করেছে এবং যুদ্ধের পরও ভবিষ্যতে এটি অব্যাহত থাকবে।
জ্বালানি পণ্য পরিবহনের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি খুব গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানির বৈশ্বিক বাজারের এক পঞ্চমাংশ পণ্য এ পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করেছে ইরান। জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য সরবরাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে এবং বিশ্বের বহু দেশ ইতোমধ্যে ভোগান্তিতে পড়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ইসরায়েল ও আমেরিকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর ইরানে ব্যাপক আকারে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ সামরিক অভিযান শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল। পারমাণবিক স্থাপনা ধংস, ক্ষেপনাস্ত্র সক্ষমতা গুড়িয়ে দেয়া, দেশের সরকার ও শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষে সামরিকে আগ্রাসন শুরু করে আমেরিকা ও ইসরায়েল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে এ যৌথ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিতিশীল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ হামলার প্রতিশোধে ইরান অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪ শুরু করে ইতোমধ্যে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে ২৭ টি মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
সূত্র: এনডিটিভি, রয়টার্স।

