
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শত্রুদের জাহাজ বাদে অন্য সবার জন্য হরমুজ প্রণালী খোলা আছে তা জানিয়েছে ইরান। রোববার (২২ মার্চ) জাতিসংঘের সামুদ্রিক বিষয়ক সংস্থার ইরানি দূত আলি মৌসাভি এ তথ্য জানান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড গতকাল রাতে হুমকি দিয়েছে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানকে হরমুজ উন্মুক্ত করে দিতে হবে। নয়ত ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। তার এ হুমকির পর ইরান জানাল, শত্রুদের জাহাজ বাদে সবার জন্য হরমুজ খোলা আছে।
ইরানের দূত বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক ম্যারিটাইম সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত আছে ইরান। সে জানিয়েছে, যেসব জাহাজের সঙ্গে ইরানের শত্রুদের সংশ্লিষ্টতা নেই তারা সহজে হরমুজ দিয়ে যেতে পারবে। অন্য দেশের জাহাজকে শুধুমাত্র ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টি সমন্বয় করতে হবে। অর্থাৎ ইরানকে জানিয়ে জাহাজ আনতে হবে।
ইরানি এ কূটনীতিক বলেছে, ইরান কূটনীতিকে প্রাধান্য দেয়। এটি এখনো অব্যাহত আছে। তবে তার আগে হামলা অবশ্য সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে এবং পারস্পরিক বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। হরমুজে বর্তমানে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে সেটির মূল কারণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ইসরায়েল ও আমেরিকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর ইরানে ব্যাপক আকারে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ সামরিক অভিযান শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল। পারমাণবিক স্থাপনা ধংস, ক্ষেপনাস্ত্র সক্ষমতা গুড়িয়ে দেয়া, দেশের সরকার ও শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষে সামরিকে আগ্রাসন শুরু করে আমেরিকা ও ইসরায়েল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে এ যৌথ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিতিশীল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ হামলার প্রতিশোধে ইরান অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪ শুরু করে ইতোমধ্যে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে ২৭ টি মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
সূত্র: রয়টার্স

