
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডে ইসরায়েলি হামলা এবং এর জবাবে ইসরায়েল জ্বালানি স্থাপনা, সৌদি আরব ও কাতারের জ্বালানি স্থাপনায় তেহরানের পাল্টা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোট এবং অন্যদিকে ইরানের এ চোখ রাঙানির লড়াইয়ে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদ মাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ খবর জানিয়েছে। বুধবার রিয়াদে যখন আরব ও মুসলিম বিশ্বের শীর্ষ কূটনীতিকরা আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠকে বসেছিল। ঠিক তখন সৌদি আরবের রাজধানী লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। একই দিনে কাতারের একটি প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনাতে হামলা চালিয়েছে তেহরান।
দখলদার ইসরায়েলের বন্দর নগরী হাইফার প্রধান তেল শোধনাগারে মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার চালানো এ হামলায় পরিশোধনাগারটিতে আগুন লেগে যায়। ইসরায়েলি অ্যাম্বুলেন্স সংস্থা মেগান ডেভিড অ্যাডম জানিয়েছে, এ হামলায় একজন সামান্য আহত হয়েছে। সেখানে হামলার পর ইসরায়েলের অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
আপরদিকে সৌদি আরবের দুটি তেল পরিশোধনাগারে ইরান হামলা চালিয়েছে এটা জানিয়েছে সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সউদ। রিয়াদে বিশ্বের অন্যান্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান। তিনি ইরানের এ হামলাকে ‘ভুল হিসাব’ অভিহিত করে বলেছে, ইরানকে নিজেদের হিসাব করতে হবে। কারণ এসব হামলায় তাদের কোনো উপকার হবে না।
অপরদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাব তেলক্ষেত্র এবং হাবসান গ্যাস কমপ্লেক্সে হামলা করে ইরান। সে খানে দেশটি মিসাইল ছুড়েছিল। এসব মিসাইল সরাসরি আঘাত হানতে না পারলে এগুলোর ধ্বংসাবশেষ গিয়ে পড়ে গ্যাস কমপ্লেক্স ও তেলক্ষেত্রে। এমন পরিস্থিতিতে গ্যাস কমপ্লেক্সের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে আমিরাত। দেশটির আবুধাবি মিডিয়া অফিস এ তথ্য জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে জ্বালানির দাম আরও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। দাম এরই মধ্যে ১৫০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। ফলে ব্রেন্ট এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের ক্ষেত্রে না হলেও, অন্যান্য তেলের দাম ২০০ ডলার হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। জ্বালানি অবকাঠামো ও কাতারের প্রধান গ্যাসক্ষেত্রে নতুন করে হামলার ঘটনায় ইউরোপে গ্যাসের দাম ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরানের হামলার পর বৃহস্পতিবার ইউরোপের বাজারে গ্যাসের দামে এ উল্লম্ফন দেখা গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ইসরায়েল ও আমেরিকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর ইরানে ব্যাপক আকারে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ সামরিক অভিযান শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল। পারমাণবিক স্থাপনা ধংস, ক্ষেপনাস্ত্র সক্ষমতা গুড়িয়ে দেয়া, দেশের সরকার ও শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষে সামরিকে আগ্রাসন শুরু করে আমেরিকা ও ইসরায়েল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে এ যৌথ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিতিশীল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ হামলার প্রতিশোধে ইরান অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪ শুরু করে ইতোমধ্যে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে ২৭ টি মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
সূত্র: সিএনএন, এএফপি, আল জাজিরা।

