
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কঠোর সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি বলেছে তেহরানের ওপর এ হামলা অবৈধ। এ ছাড়া নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনিকে নির্বাচন করাকে ইরানিদের পছন্দ অভিহিত করেছে দেশটি। বুধবার উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এ কথা বলেছে। তারা ইরানে হামলার কঠোর নিন্দা জানান। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি-স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে উল্লেখ করে মুখপাত্র বলেছে, ইরানে অবৈধ হামলা চালিয়ে বিশ্বব্যাপী তারা স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। অন্য দেশের সরকারকে হেনস্তা করতে হুমকি ও হামলা গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করেছে দেশটি। উত্তর কোরিয়া আরও বলেছে, ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট নতুন যে সুপ্রিম লিডার নির্বাচন করেছে তাকে তারা শ্রদ্ধা জানান এবং এ নির্বাচনে ইরানিদের চাওয়া ফুটে উঠেছে।
আপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াকে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং। দুই দেশের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দিয়েছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ মাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার এ বৃহৎ পরিসরের সামরিক মহড়া কোরীয় উপদ্বীপকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। এর জবাবে উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। বিবৃতিতে কিম জং উনের বোন বলেছেন, আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে। এমন পেশি শক্তির প্রদর্শন অকল্পনীয় ভয়াবহ পরিণতির কারণ হতে পারে। তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ যেন কখনো আমাদের ধৈর্য, ইচ্ছা এবং সক্ষমতা পরীক্ষা করার চেষ্টা না করে। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া বার্ষিক বসন্তকালীন যৌথ সামরিক মহড়া ‘ফ্রিডম শিল্ড’ শুরু করার পর কিম ইয়ো জং এ হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ইসরায়েল ও আমেরিকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর ইরানে ব্যাপক আকারে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ সামরিক অভিযান শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল। পারমাণবিক স্থাপনা ধংস, ক্ষেপনাস্ত্র সক্ষমতা গুড়িয়ে দেয়া, দেশের সরকার ও শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষে সামরিকে আগ্রাসন শুরু করে আমেরিকা ও ইসরায়েল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে এ যৌথ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিতিশীল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ হামলার প্রতিশোধে ইরান অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪ শুরু করে ইতোমধ্যে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে ২৭ টি মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
সূত্র: সিএনএন, আনাদোলু।

