ইরানে সামরিক অভিযানে আমেরিকা ও ইসরায়েল: রেভল্যুশনারি গার্ডের সর্বাধিনায়ক আহমাদ ওয়াহিদি, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি, অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪ যোগ হবে নতুন অস্ত্র

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এর নতুন সর্বাধিনায়ক হয়েছে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি। ইরানি সংবাদ মাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় গত ১ মার্চ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ পাকপৌর নিহত হওয়ার ৫ দিন পর আহমাদ ওয়াহিদিকে নতুন সর্বাধিনায়ক বেছে নিলো ইরান। সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি আইআরজিসির প্রধান দায়িত্ব ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকার এবং ইসলামি বিপ্লবের অর্জনকে রক্ষা করা। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নির্দেশে এ বাহিনী গঠিত হয়েছিল।

            ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নাইনি জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা বাহিনী দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং এজন্য কিছু নতুন অস্ত্র আগে থেকে তুলে রাখা হয়েছে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইরান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। এজন্য নতুন অস্ত্র আমরা আলাদাভাবে তুলে রেখেছি। সে সব এখন বড় মাত্রায় ব্যবহার করা হয়নি। নতুন অস্ত্রগুলো শত্রুদের গুরুতর এবং যন্ত্রণাদায়ক প্রত্যাঘাত করবে। বর্তমানে সেগুলো পাইপলাইনে আছে। যথা সময়ে ব্যবহার করা হবে। ইসরায়েল এবং ইরানের সঙ্গে এর আগে ২০২৫ সালের জুন মাসে ১২ দিনব্যাপী সংঘাত হয়েছিল। বিবৃতিতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাইনি বলেছে সে সংঘাতের তুলনায় এবারের যুদ্ধে ইরানের অস্ত্রভাণ্ডার আরও বেশি সমৃদ্ধ। প্রথমবারের মতো ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে নিজেদের ক্লাস্টার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র খাইবার নিক্ষেপ করে ইরান। তারপরে এ বিবৃতি দেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাইনি।

            ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়া শেষ হয় সে সংলাপ। তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল। এ হামলার পাল্টা জবাবে ইরান অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪ শুরু করে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের  ২৭ টি মার্কিন সেনাঘাঁটিতে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে।

            ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি আইআরজিসি গঠনের শুরু থেকে এ বাহিনীর একজন কমান্ডার ছিলেন। ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত আইআরজিসির এলিট ব্রিগেড কুদস ফোর্সের শীর্ষ কমান্ডার ছিল। সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনিজাদের সময়ে (২০০৫-২০১৩) পর্যন্ত ছিল ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিল ওয়াহিদি।

            গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ইসরায়েল ও আমেরিকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর ইরানে ব্যাপক আকারে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। পারমাণবিক স্থাপনা ধংস, ক্ষেপনাস্ত্র সক্ষমতা গুড়িয়ে দেয়া, দেশের সরকার ও শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষে সামরিক অভিযান শুরু করে আমেরিকা ও ইসরায়েল। তেহরানে নতুন করে আরও বড় ধরনের হামলা শুরু হয়েছে জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে এ যৌথ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হামলার প্রতিশোধে ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে ২৭ টি মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।

সূত্র: আলজাজিরা।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *