ইরানে সামরিক অভিযানে আমেরিকা ও ইসরায়েল: তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, খামেনিকে হত্যার দাবি ইসরায়েলি গণমাধ্যম, ইরানের ৩১ প্রদেশের ২০ টি হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে পরমাণু শক্তি ও সরকার পরিবর্তনের লক্ষে সামরিক অভিযান শুরু করে আমেরিকা ও ইসরায়েল। ইরানের রাজধানী তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যৌথ হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ইসরায়েল। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) সকাল ৯ টার দিকে রাজধানী তেহরান ও ইরানের ২০ টি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদে তেহরানে বিস্ফোরণ ঘটেছে এ সম্প্রচার করা হয়েছে। তেহরানের কেন্দ্রীয় এলাকার বিভিন্ন ভবন থেকে আগুনের কালো ধোঁয়ার কুন্ডুলি উঠছে। ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল। তাদের এই যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য দেশটিতে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করা। তেহরানে যে এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, তার কাছে খামেনির দপ্তর। এরআগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস স্যাটেলাইটের একটি ছবি প্রকাশ করেছিল। সেখানে দেখা গেছে খামেনির প্রাসাদ যৌথ হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

            অপরদিকে ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ শুরু হয়েছিল। গত কাল শনিবার জেনেভায় কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়া শেষ হয়েছে সংলাপ। সংলাপ শেষ হওয়ার পর ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছিল, বৈঠকের ফলাফল নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন। তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিদের বৈঠক শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। গত কয়েক মাস ধরে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলা ছায়াযুদ্ধ সরাসরি সংঘাতে রূপ নিয়েছে।

            ইসরায়েলি সংবাদ মাধ্যম চ্যানেল-১২ নাম একটি সূত্র বলেছে, ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছে দাবি করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায়। ইসরায়েল কাৎজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছে। সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। সাইরেন বাজানোর কারণ ব্যাখ্যা করে এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার জন্য সতর্কতা এ সাইরেন বাজানো হয়েছে। চ্যানেল-১২ বলছে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইরান খামেনির একটি ভাষণ প্রকাশ করতে পারে। তবে সেটি হামলার আগে রেকর্ড করা দাবি তাদের। এ হামলায় ইরানের সরকার এবং সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে।

            সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হেনেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দপ্তরের কাছে আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র।

            সংবাদ মাধ্যম এএফপি এবং রয়টার্স জানিয়েছে, ৮৬ বছর বয়সী খামেনি বর্তমানে তেহরানে নেই। তাকে আগেই রাজধানী থেকে দূরে একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপরে এর বেশি আর কিছু জানা যায়নি।

            যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো হামলায় ইরানের ৩১ টি প্রদেশের মধ্যে ২০ টির বেশি প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার এ তথ্য জানিয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মুখপাত্র মোজতবা খালেদি বলেছেন, এখন পর্যন্ত ২০ টি বেশি প্রদেশ হামলার শিকার হয়েছে।

            দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছে, ইরানে ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলার সঙ্গে জড়িত সব স্থাপনা এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীর বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। ‌‌ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সে সব স্থানকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু বিবেচনা করছে। যেখান থেকে মার্কিন ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত সব স্থাপনা আমাদের লক্ষ্যবস্তুর অন্তর্ভুক্ত। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে এবং তারা কেবল ইসরায়েল নয়, বরং হামলায় সহায়তাকারী মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

            এদিকে, দক্ষিণ ইরানে একটি স্কুলে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫১ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন খবর দিয়েছে। দেশটির মিনাব কাউন্টির গভর্নর বলেছে, একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে এখন পর্যন্ত ৫১ জন শিক্ষার্থী নিহত ও আরও ৬০ জন আহত হয়েছে।

সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, টাইমস অব ইসরায়েল, এএফপি

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *