
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বিক্ষুব্ধ জনতাকে সরকার বিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জনতাকে দেশটির জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দখল নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে তিনি। অপরদিকে দেশটিতে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সহিংসতায় এত বেশিসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির কথা প্রথম বারের মতো স্বীকার করল ইরানি কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উসকানি দিচ্ছে অভিযোগ করেছে তেহরান। অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা সাধারণ জনগণের বিক্ষোভকে ছিনতাই করেছে এ দাবি করেছে তেহরানের শাসকগোষ্ঠী।
নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় ইরানের আন্দোলনরত জনতার উদ্দেশে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরানের দেশপ্রেমিক জনগণ, আপনারা বিক্ষোভ আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যান, নিজেদের জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দখল নিন। হত্যাকারী নির্যাতনকারীদের নাম নথিবদ্ধ কর। তাদের অনেক চড়া মূল্য দিতে হবে। ইরানের বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ তেহরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যাবতীয় বৈঠক স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তিনি। ইরানে বিক্ষোভ দমন করতে নির্বিচারে গুলি চালানো হচ্ছে। এ নির্বোধ হত্যা যতদিন না বন্ধ হয়, ততদিন পর্যন্ত ইরানের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে আমি বৈঠক করব না। ইরানে হতাহত সংক্রান্ত যাচাইকৃত তথ্য এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আসেনি। মূলত এ কারণে ইরানে সম্ভাব্য হামলার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত স্থির সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি ওয়াশিংটন। শেষ খেলা হলো জয়, আর আমি জিততে ভালবাসি।

অথনৈতিক সংকটে জনজীবনে নেমে আসা চরম দুর্ভোগের ক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া ইরানের সরকার বিরোধী বিক্ষোভে অন্তত ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির সরকারি এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছে। গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরকার বিরোধী বিক্ষোভ প্রতিবাদে কমপক্ষে ২ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। তাদের মধ্যে দেশটির বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছে। এ প্রাণহানির ঘটনায় সন্ত্রাসীদের দায়ী করেছেন এ কর্মকর্তা। বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রাণহানির ঘটনায় সন্ত্রাসীরা দায়ী।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব বিক্ষোভ মোকাবিলায় দ্বিমুখী কৌশল বেছে নিয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ প্রতিবাদকে ন্যায্য স্বীকার করলে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করছে দেশটির সরকার। বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে দেশটিতে ইন্টারনেটের ওপর ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করায় দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় পুরোপুরি বিচ্ছন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি সামরিক গ্রেডের জ্যামার ব্যবহার করে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্টারলিঙ্কের ইন্টারনেট সংযোগ অচল করে দিয়েছে ইরান।
সূত্র: আলজাজিরা, আরটি, রয়টার্স, এএফপি।

