
বিনোদন ডেস্ক: মিস ইউনিভার্সের ৭৪ তম আসরের মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন মডেল ও অভিনেত্রী তানজিয়া জামান মিথিলা। থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এ আসরে তিনি কেবল নিজের সৌন্দর্যই নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরছেন বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মাধ্যমে তিনি এখন পিপলস চয়েস বা জনপ্রিয়তার বিভাগে শীর্ষস্থানের খুব কাছাকাছি। মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জনপ্রিয়তার বিচারে ১ নম্বর স্থানটি দখল করতে বাংলাদেশের প্রয়োজন আর মাত্র ১৪,০০০ ভোট। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের পক্ষে এখন পর্যন্ত রেকর্ড পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ ৫০ হাজার ভোট পড়েছে। যা বাংলাদেশের জন্য এক নজির বিহীন ঘটনা। তবে সময় খুব অল্প। ১৯ নভেম্বর রাতে শেষ হচ্ছে ভোট গ্রহণের সময়। বাংলাদেশ সময় রাত ১০ টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ভোট দেওয়া যাবে। আয়োজক ও সমর্থকদের পক্ষ থেকে দেশের প্রতিটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মিথিলাকে ভোট দেওয়ার এবং ইতিহাস গড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বাংলাদেশের কোটি মানুষের ভোটে মিথিলা সে স্বপ্নের মুকুট জয় করতে পারেন কি না।
বিজয়ীর মাথায় উঠবে যে সব মুকুট ও পুরস্কার: বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও সর্বাধিক দেখা এ বিউটি প্যাজেন্টের বার্ষিক বাজেট প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। যদি তানজিয়া জামান মিথিলা বা কোনো প্রতিযোগী এ আসরে বিজয়ী হন, তবে তার জীবনযাত্রা আমূল বদলে যাবে। মিস ইউনিভার্স অর্গানাইজেশন বিজয়ীর জন্য রাজকীয় সব সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করে থাকে। মিস ইউনিভার্স আসরের বিজয়ী ৫.৫ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬৬ কোটি টাকা) মূল্যের একটি হীরাখচিত মুকুট পরার সুযোগ পাবেন। ফোর্স ফর গুড নামে এ মুকুটটি প্রায় এক হাজার হীরা এবং নীলকান্তমণি দিয়ে সজ্জিত। মিস ইউনিভার্সকে এক বছরের বেতন হিসেবে নগদ আড়াই লাখ ডলারের চেক দেওয়া হয়। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ কোটির বেশি। বিজয়ী এক বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে মিস ইউনিভার্স অর্গানাইজেশনের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে থাকার সুযোগ পান। যুক্তরাষ্ট্রের মিস ইউনিভার্স বিজয়ীরা সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ পেয়ে থাকেন। পরবর্তী এক বছর বিজয়ীর খাওয়া, পোশাক, প্রসাধন সামগ্রী, বাজার করা বা রান্নাবান্না কোনো কিছু নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। এ সব খরচ বহন করে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বভ্রমণের জন্য বিজয়ীকে একটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ (প্রাইভেট জেট) দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তিনি বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে ঘুরে বেড়াতে পারেন। প্রতিটি সফরের হোটেল খরচ, খাওয়া, ফটোশুট বা প্রেস মিটিংয়ের সমস্ত আয়োজন করে মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ। বিজয়ীকে মিস ইউনিভার্সের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাতব্য কাজে অংশ নিতে হয়। এর বাইরে তিনি কোনো কনসার্ট, ফ্যাশন শো, অ্যাওয়ার্ড শো বা পার্টিতে যেতে চাইলে কর্তৃপক্ষ ভিআইপি প্রটোকলে সব ব্যবস্থা করে দেয়। এক কথায়, মিস ইউনিভার্স বিজয়ী পরবর্তী এক বছর স্বপ্নের মতো জীবনযাপনের সুযোগ পান।

মিস ইউনিভার্সে জামদানি শাড়িতে মিথিলা: বিশ্বের সামনে দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্প, জামদানি শাড়ি। মিথিলার জাতীয় পোশাকটি দেশের রাজকীয় ঐতিহ্য তুলে ধরেছে। ২০১৩ সালে ইউনেস্কো এ প্রাচীন শিল্পকলাকে মানবতার এক অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য স্বীকৃতি দেয়। যা জামদানির চিরন্তন সৌন্দর্য এবং কারুশিল্পকে বৈশ্বিকভাবে উদযাপন করে। নিজের অনুভূতি ও পোশাকের বিশেষত্ব প্রকাশ করে এক পোস্টে মিথিলা লিখেছেন, মিস ইউনিভার্স মঞ্চের জাতীয় পোশাকটি সজ্জিত হয়েছে একটি রাজকীয় জামদানি শাড়িতে। যা বাংলাদেশের রাজকীয় ঐতিহ্যের এক জীবন্ত উত্তরাধিকার। মুঘল সম্রাট, নবাব এবং বাংলার অভিজাতদের জন্য বোনা এ জামদানি শাড়ি কয়েক শত বছরের রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং সাংস্কৃতিক গর্বের প্রতীক। মিথিলার কথায়, এটি এমন একটি কাপড়, যার প্রতিটি সুতোয় রয়েছে শিল্পকলা, নিষ্ঠা এবং চিরন্তন কমনীয়তা। বাংলার কালজয়ী তাঁত থেকে উদ্ভূত এ জাতীয় পোশাকটি হাতে বোনা এক জামদানি শাড়ি। যা সৌন্দর্য, ঐতিহ্য এবং স্থিতিস্থাপকতার এক জীবন্ত প্রকাশ। এর ঐতিহ্য শুরু হয় ১৭ শতকের মুঘল যুগ থেকে। সে সময় জামদানি ছিল রাণী ও অভিজাতদের কাছে মূল্যবান। এটি বিলাসিতা এবং রাজকীয় আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো। পোশাকটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে সেরা সুতির তন্তু। এটি সজ্জিত হয়েছে স্বর্ণালী জরি মোটিফে। নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী তাঁতশিল্পীদের দ্বারা নিপুণভাবে বোনা হয়েছে এ বিশেষ শাড়িটি। জামদানির জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত এ অঞ্চল থেকে এর বুনন প্রথা বহমান। মিথিলা জানান, এ বিশেষ শাড়িটি সম্পূর্ণ হাতে তৈরি এবং এটি সম্পূর্ণ করতে সময় লেগেছে ১২০ দিনের বেশি। শাড়িটির ডিজাইনার হলেন আফ্রিনা সাদিয়া সৈয়দা। মিথিলার পরা এ জামদানি শাড়িতে ফুটে উঠেছে স্নিগ্ধ শাপলা মোটিফ। শাপলা হলো বাংলাদেশের জাতীয় ফুল। শুধু পোশাকে নয়, মিথিলার সোনার গয়নাতে শোভা পাচ্ছে একই শাপলা ফুল। ৬ ইয়ার্ডস স্টোরি লরা খানের নকশা করেছে।

