
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নিজের বিজয় নিশ্চিত করেছে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার পার্লামেন্টের এমপিদের ভোটে নিজের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়োশিহিকো নোদাকে ৮৮ ভোটে পরাজিত করেছে তিনি। ২০২৪ সালের আগস্টে জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা পদত্যাগ করার পর এ বছরের সেপ্টেম্বরে নতুন প্রধানমন্ত্রী হন কিশিদার মন্ত্রিসভার প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিগেরু ইশিবা। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক বছরের মাথায় গত ৭ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন তিনি। তার পদত্যাগের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়েছে সানায়ে তাকাচি।
সাবেক নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার মেয়াদ আরও দু’বছর ছিল। অর্থাৎ সাংবিধানিকভাবে কিশিদা ও তার নেতৃত্বাধীন সরকারের মেয়াদ শেষ হতো ২০২৬ সালের শেষ দিকে। তার আগে পদত্যাগ করেছে কিশিদা। সরকারের মেয়াদ থাকায় এবং পার্লামেন্টে এলডিপি সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় গত বছর এমপিদের ভোটের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিল ইশিবা। নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এ পদ্ধতিতে প্রধানমন্ত্রী হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ থাকবে। অর্থনৈতিক মন্দা, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, স্থবির মজুরি এবং জনগণের ভোগান্তি সামলানো এখন তার বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপড়েন মোকাবিলা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আগের সরকারের স্বাক্ষরিত শুল্ক চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিতে হবে তাকে।
১৯৫৫ সাল থেকে জাপানে ক্ষমতায় রয়েছে এলডিপি। সুতরাং দেশটির সাধারণ জনগণের কাছে দলটির জনপ্রিয়তা ও গ্রহণ যোগ্যতা প্রায় প্রশ্নাতীত পর্যায়ে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এলডিপি জনপ্রিয়তায় ভাটার টান শুরু হয়েছে। তাকাইচি এলডিপি পরীক্ষিত নেত্রী। জাপানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে এমপি টানা ৩০ বছর ধরে আছে তিনি। এর মধ্যে একবার জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছিল তাকাইচি। রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন টেলিভিশন শো এর উপস্থাপক কাজ করেছে। তার শখ হেভি মেটার মিউজিকের সঙ্গে ড্রাম বাজানো।
সূত্র: জাপান টাইমস

