পার্বত্য চট্টগ্রাম ডেস্ক: পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে সেনাবাহিনীর প্রত্যাহার করা ক্যাম্পে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এপিবিএন ক্যাম্প স্থাপন করা হবে, জানিয়েছেন স্বরাষ্টমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বুধবার (২৫ মে) রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক বিশেষ আইন শৃঙ্খলা সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

            পাহাড়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় এপিবিএন ও পুলিশ যথেষ্ট মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন হলে র‌্যাব আসবে, পুলিশ থাকবে। আমাদের পুলিশ এখন আগের চেয়ে অনেক সক্ষম।

            এই বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা সন্তু।

            সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়া উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রি পরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ, পুলিশের মহা পরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডার সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. সাইফুল আবেদীন, রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পার্বত্য চট্টগ্রামের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা, তিন জেলার জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারবৃন্দ।

            ১৯৯৭ সালে স্বাক্ষরিত পার্বত্য চুক্তি তথাকথিত শান্তি চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশের পাহাড়ি জনপদ পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে পর্যায়ক্রমে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার৷ সরকার ঘোষনা করেছিল শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ৩৫টি অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প ও এক ব্রিগেড সেনা প্রত্যাহার করা হবে। পার্বত্য চুক্তির পর পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে এটি হবে সর্ববৃহৎ সেনা প্রত্যাহার৷

            শান্তি চুক্তি অনুসারে বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বুধবার (২৯ জুলাই ২০০৯) সালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে পার্বত্য তিন জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান থেকে সেনাবাহিনীর তিনটি পদাতিক ব্যাটেলিয়ন ও একটি সম্পূর্ণ ব্রিগেড প্রত্যাহার করা হবে৷ সেই সঙ্গে এরপরে পর্যায়ক্রমে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সকল সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা হবে৷ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর এ পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে এটি হবে সর্ববৃহৎ ও উল্লেখযোগ্য সেনা প্রত্যাহার৷

খবরটি 520 বার পঠিত হয়েছে


আপনার মন্তব্য প্রদান করুন

Follow us on Facebookschliessen
oeffnen