
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যদি চুক্তি না হয়, তাহলে ইরানে ফের সামরিক অভিযান শুরুর জন্য প্রস্তুত আছে মার্কিন বাহিনী। শনিবার যুক্তরষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ এ হুমকি দিয়েছে। সিঙ্গাপুরে এশিয়া ভিত্তিক নিরাপত্তা জোট সাংগ্রি-লা ডায়লগের সম্মেলন শুরু হয়েছে। এ সম্মেলনে অতিথি এসেছে হেগসেথ।
হেগসেথ সম্মেলনে ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে বলেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বর্তমানে ‘ধৈর্য’ রেখে চলছে যেন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘ভালো চুক্তি’ হয়। এ চুক্তির প্রধান উদ্দেশ্যে ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা। কিন্তু যদি শেষ পর্যন্ত চুক্তি না হয়, তাহলে ইরানে ফের হামলার জন্য সব ধরনের উপকরণ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যথেষ্ট পরিমাণে মজুত আছে উল্লেখ করে হেগসেথ। প্রয়োজনে ফের কাজ শুরু করার ব্যাপারে আমাদের সক্ষমতা এবং প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই। সম্ভাব্য হামলার জন্য যত অস্ত্র গোলাবারুদ প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশি অস্ত্র-গোলাবারুদ আমাদের মজুত আছে। অস্ত্র-গোলাবারুদ এবং সামরিক শক্তিতে আমরা এখন খুব ভালো অবস্থায় আছি। আমরা একই সঙ্গে দুটি কাজ করতে পারি। একদিকে আমরা আমাদের প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তিকে ব্যাপকভাবে শক্তিশালী করছি যেন খুব শিগগির আমরা দ্বিগুণ, তিনগুণ বা চারগুণ বেশি যুদ্ধাস্ত্র তৈরি করতে পারি এবং অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে আমাদের সমস্ত অপারেশন পরিকল্পনার জন্য যথাযথ অর্থায়ন নিশ্চিত করছি।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে সৃষ্টা টানাপোড়েনের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামারিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। তারপর টানা ৪০ দিন সংঘাত শেষে গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এখন সে যুদ্ধবিরতি চলছে। চলমান এই যুদ্ধবিরতির প্রধান উদ্দেশ্য ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে একটি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি স্থায়ী সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর। কিন্তু বিরতির প্রায় দু’মাস পেরিয়ে গেলে এ ব্যাপারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। এ অবস্থায় যুদ্ধ বিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বিষয়ক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে নতুন একটি চুক্তি স্বাক্ষরে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরকারি কর্মকর্তারা। কিন্তু ট্রাম্প এখন এ ব্যাপারে সায় দেননি। এমন অবস্থার মধ্যে ইরানে ফের হামলা শুরুর হুমকি দিলেন হেগসেথ।
সূত্র: রয়টার্স

