সিআইএ মোসাদ গুপ্তচরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ইসরায়েলি মোসাদের কাছে স্পর্শকাতর তথ্য পাচার ও সহযোগিতার ঘটনায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। সোমবার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে ইরফান শাকুরজাদেহ নামের এ গুপ্তচরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পেশাগত দক্ষতার কারণে শাকুরজাদেহ স্যাটেলাইট সংশ্লিষ্ট একটি বিজ্ঞান ভিত্তিক সংস্থায় নিয়োগ পেয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং কাজ সংশ্লিষ্ট অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য পাচার করে। বিদেশি সংস্থাগুলোর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল তিন স্তরের যার প্রথম ও তৃতীয় পর্যায়ে মোসাদ এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ছিল সিআইএ। দেশটির বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তিনি জেনেশুনে সংস্থার স্পর্শকাতর তথ্য বিদেশি গোয়েন্দাদের কাছে সরবরাহ করেছিল।

            দেশটির তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলেছে, শুরুর দিকে অনলাইনে একটি ‘সহযোগিতা ফরম’ পূরণ করে মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শাকুরজাদেহ। এরপর ই-মেইলের মাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য, কর্মস্থল, কাজের পরিধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের বিবরণ আদান প্রদান করে। পরবর্তীতে নিজেকে কানাডা প্রবাসী ইরানি পরিচয় দিয়ে একজন ব্যক্তি লিঙ্কডইনের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। এ ব্যক্তি মূলত মোসাদের একজন কর্মকর্তা ছিল। তিনি শাকুরজাদেহকে ডলার অর্থায়নে পরিচালিত বিদেশি প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেয়। এ যোগাযোগ পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপ ও গুগল ভিত্তিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে চলতে থাকে। শাকুরজাদেহ ক্রিপ্টোকারেন্সির বিনিময়ে স্যাটেলাইট প্রকল্প এবং কোম্পানির কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য শেয়ার করত। পরবর্তীতে সিআইএর ওয়েবসাইটে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্য জমা দিয়ে সরাসরি সংস্থাটির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে শাকুরজাদেহ। মার্কিন ভিসা এবং যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়ার জন্য সিআইএর সহায়তা চেয়েছিল।

            মামলার নথিতে বলা হয়েছে, শাকুরজাদেহ সিআইএর প্রতিনিধিদের জানিয়েছিল, তিনি আমেরিকান পাসপোর্ট ও অর্থ চান। সিআইএ সঙ্গে যোগাযোগ থাকা অবস্থাতে তিনি পুনরায় মোসাদের সঙ্গে কাজ শুরু কর। মামলার নথিতে তার পরিচালক হিসেবে রন ও অ্যালেক্স নামের দুই ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাচারকৃত তথ্যের মধ্যে সংস্থার কর্মীদের পরিচয় ও যোগাযোগের ঠিকানা, বিভিন্ন প্রকল্পের বিবরণ, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং অভ্যন্তরীণ নথি ও তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরিচয় গোপন রেখে যোগাযোগের জন্য বিদেশি ফোন নম্বর ও নতুন ই-মেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের মাধ্যমে গোপন চ্যানেল তৈরির চেষ্টা করেছিল।

সূত্র: ওয়েস্ট এশিয়া নিউজ এজেন্সি।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *