ইরানে সামরিক আগ্রাসনে আমেরিকা ও ইসরায়েল: ডোনাল্ড ট্রাম্প নিরাপত্তা উদ্বেগে পাকিস্তানে শান্তি আলোচনায় যাচ্ছে না জেডি ভ্যান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাকিস্তানে যাচ্ছে না  জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার মার্কিন সংবাদ মাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ভ্যান্স পাকিস্তানে যাবে না জানিয়েছে তিনি। এর আগে, জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত মাইক ওয়াল্টজ এবং জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট দুজন ইঙ্গিত দিয়েছিল, সোমবার থেকে ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া আলোচনা সভায় ভ্যান্স নেতৃত্ব দেবে। ভ্যান্স কেন যাচ্ছে না, এমন এক প্রশ্নের জবাবে এবিসি নিউজকে ট্রাম্প বলেছে, এটি শুধু নিরাপত্তার কারণে। জেডি (ভ্যান্স) চমৎকার মানুষ। এর আগে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে  ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় অংশ নিতে সোমবার পাকিস্তানে পৌঁছাবেন মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরা।

            শান্তি চুক্তির জন্য ইরানকে শেষ সুযোগ, ট্রাম্পের সতর্কবার্তা: একই দিনে দেশটির আরেক সংবাদ মাধ্যম ফক্স নিউজকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছে, শান্তি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানের সামনে এটি শেষ সুযোগ। তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মতো একই ভুল করবেন না। যার প্রশাসন ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে একটি বিস্তৃত পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, যদি ইরান এ চুক্তিতে সই না করে, তাহলে পুরো দেশটি উড়িয়ে দেওয়া হবে।

                যুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে ইরান ও পাকিস্তানের আলোচনা: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইশহাক দার এক ফোনালাপে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ইসরায়েলি যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করেছে। এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দুই নেতা সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করেছে।

            গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ইসরায়েল ও আমেরিকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর ইরানে ব্যাপক আকারে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ সামরিক অভিযান শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল। পারমাণবিক স্থাপনা ধংস, ক্ষেপনাস্ত্র সক্ষমতা গুড়িয়ে দেয়া, দেশের সরকার ও শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষে সামরিকে আগ্রাসন শুরু করে আমেরিকা ও ইসরায়েল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে এ যৌথ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিতিশীল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ হামলার প্রতিশোধে ইরান অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪ শুরু করে ইতোমধ্যে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে ২৭ টি মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
সূত্র: আল জাজিরা।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *