
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পুনরায় বিধি নিষেধ আরোপ করা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রত্যক্ষ ফল মনে করছে বিশ্লেষকরা। প্রণালি খুলে দেওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ জারি রাখা যুদ্ধ বিরতি চুক্তির লঙ্ঘনের শামিল। শুক্রবার রাতে ইরান হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দেওয়ার সীমিত প্রচেষ্টা চালানোর পর ট্রাম্প গণমাধ্যমের সামনে এসে মিথ্যা বিবৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করেছে। পাকিস্তানের এক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে নিজেদের শর্তাবলি পাঠিয়ে দিয়েছে ইরান। পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আমেরিকান পক্ষকে জানিয়ে দিয়েছি যে, দ্বিতীয় দফার আলোচনায় রাজি নই।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন দফার আলোচনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খতিবজাদেহ বলেছে, উভয় পক্ষ একটি অভিন্ন কাঠামোতে সম্মত না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা হতে পারে না। তিনি বলেন, যতক্ষণ না আমরা কাঠামোর বিষয়ে একমত হচ্ছি, ততক্ষণ আমরা কোন তারিখ নির্ধারণ করতে পারি না। আলোচনায় ইরান যা কিছুতে সম্মত হোক না কেন, তাতে অবশ্য আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে দেশটির অধিকার সংরক্ষিত থাকতে হবে। ইরান আন্তর্জাতিক আইনের ব্যতিক্রম কিংবা নিজের অধিকার বিসর্জন দেওয়া মেনে নেবে না।
তেহরান থেকে কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানি বিশ্লেষক অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম বলেছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী এ প্রণালিটি উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমেরিকার অবরোধ যুদ্ধ বিরতির শর্তের একটি লঙ্ঘন। আমেরিকানরা আরও সৈন্য এবং সরঞ্জাম নিয়ে আসছে। যা চুক্তির আরেকটি লঙ্ঘন। যার ফলে তেহরান এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, তাদের এ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেওয়া উচিত। সংকটের সমাধানে কূটনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে খোশচেশম পরিষ্কার করে বলেছে, এটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। ট্রাম্প প্রতি ঘণ্টায় তার অবস্থান ও কথা পরিবর্তন করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্যারিস জলবায়ু চুক্তি, ন্যাটোর প্রতিশ্রুতি এবং একাধিক আন্তর্জাতিক চুক্তি পরিত্যাগের উদাহরণ টেনা যায়। সে বলেছে, ট্রাম্প এমন ব্যক্তি নন যার সঙ্গে আলোচনা করা সম্ভব। তিনি জাতিসংঘ কিংবা নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি কোন ধরনের সম্মান প্রদর্শন করে না। আমি যে কোন ধরনের আলোচনার চেয়ে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি দেখছি।
এদিকে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় তেহরান এখন রাজি হয়নি। এমনকি এ আলোচনার জন্য সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। অজ্ঞাত এক সূত্রের বরাত দিয়ে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বার্তা আদান প্রদানের সময় যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত দাবি উপস্থাপন করেছে মনে করে ইরান। যে কারণে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সে সব দাবি ত্যাগ করাকে অন্যতম শর্ত বেধে দিয়েছে তেহরান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ইসরায়েল ও আমেরিকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর ইরানে ব্যাপক আকারে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ সামরিক অভিযান শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল। পারমাণবিক স্থাপনা ধংস, ক্ষেপনাস্ত্র সক্ষমতা গুড়িয়ে দেয়া, দেশের সরকার ও শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষে সামরিকে আগ্রাসন শুরু করে আমেরিকা ও ইসরায়েল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে এ যৌথ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিতিশীল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ হামলার প্রতিশোধে ইরান অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪ শুরু করে ইতোমধ্যে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে ২৭ টি মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
সূত্র: আল জাজিরা।

