ইরানে সামরিক আগ্রাসনে আমেরিকা ও ইসরায়েল: যুক্তরাষ্ট্র ইরান শান্তি আলোচনা পাকিস্তানে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের পুরো সভ্যতাকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার নজির বিহীন হুমকির সঙ্গে নিজেদের বেধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যকে গ্রাস করা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল যুদ্ধ স্থগিত হয়ে যায়। পাকিস্তানের নেতৃত্বে পর্দার আড়ালের কূটনীতির পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে এ যুদ্ধ বিরতির সিদ্ধান্ত আসে। বর্তমানে ভঙ্গুর যুদ্ধ বিরতি কোনোমতে টিকে রয়েছে। যুদ্ধ বিরতি চললে উত্তেজনা ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় উভয়পক্ষের মাঝে আলোচনার আয়োজন করেছে ইসলামাবাদ।

            পাকিস্তানি সংবাদ মাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া বিধ্বংসী যুদ্ধের পর অবশেষে কিছুটা স্বস্তির বার্তা মিলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের নজির বিহীন যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এখন সবার নজর আগামী শনিবারের (১১ এপ্রিল) দিকে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এ দিন সরাসরি বৈঠকে বসছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল অসীম মুনিরের দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় এ আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়েছে। যুদ্ধবিরতির পরিবেশ এখনও অত্যন্ত নাজুক। এ বৈঠকের ওপর নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ।

            এ বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইরানের কাছে ভ্যান্স তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য মুখ। এর আগে জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের মতো মার্কিন দূতদের সাথে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় তেহরান তাদের ওপর আস্থা হারিয়েছে। ইরানের পক্ষে মূল ভূমিকা পালন করবেন দেশটির অভিজ্ঞ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। পরমাণু সমঝোতায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে তাকে কঠিন দরকষাকষির কারিগর বলা হয়। প্রতিনিধিদলে থাকবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

            গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ইসরায়েল ও আমেরিকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর ইরানে ব্যাপক আকারে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ সামরিক অভিযান শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল। পারমাণবিক স্থাপনা ধংস, ক্ষেপনাস্ত্র সক্ষমতা গুড়িয়ে দেয়া, দেশের সরকার ও শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষে সামরিকে আগ্রাসন শুরু করে আমেরিকা ও ইসরায়েল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে এ যৌথ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিতিশীল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ হামলার প্রতিশোধে ইরান অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪ শুরু করে ইতোমধ্যে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে ২৭ টি মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
সূত্র: ডন।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *