
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন ও ইসরায়েলি যুদ্ধের কঠোর সমালোচনা করেছে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। এ যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতা বহির্ভূত ক্রমবর্ধমান ও বিপজ্জনক হস্তক্ষেপের অংশ অভিহিত করেছে। বুধবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতালির পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তৃতায় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের সমালোচনা করেছে মেলোনি। তার ডানপন্থী সরকার মিত্রদের প্রতি অত্যন্ত নমনীয় আচরণ করছে। দেশটির বিরোধী দলগুলোর অভিযোগের মাঝে এ সমালোচনা করেন তিনি। স্পেন ছাড়া ইউরোপের অন্যান্য দেশ সাধারণত মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার সরাসরি সমালোচনা এড়িয়ে চলেছে এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে আসছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ১২ তম দিনে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান পরস্পরের লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টাপাল্টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এ সংঘাতের ফলে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এ সঙ্কট নিয়ে আলোচনার সময় মেলোনি মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের সঙ্গে রাশিয়ার ২০২২ সালের ইউক্রেন আক্রমণের তুলনা করে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা আরও বিস্তৃত হয়েছে।

অপরদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বিরোধিতা করায় দেশ দু’টির সঙ্গে স্পেনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন ব্যাপক জটিল আকার ধারণ করেছে। এ জেরে ইসরায়েল থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে স্পেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে কূটনৈতিক বিবাদের জেরে ইসরায়েল থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠায় স্পেন। গাজা যুদ্ধে ব্যহারের জন্য ইসরায়েলি অস্ত্র বহনকারী যেকোন বিমান কিংবা জাহাজ স্পেনের বন্দর অথবা আকাশপথ ব্যবহার করতে পারবে না এ নিষেধাজ্ঞা দেয় দেশটি। এ পদক্ষেপকে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন ইহুদিবিদ্বেষী অভিহিত করেছিল।
এর আগে, গত মে মাসে স্পেন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিবাদে ইসরায়েল তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। ফলে বর্তমানে স্পেনে ইসরায়েলি দূতাবাস এক জন ‘চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স’ দিয়ে চলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে উত্তেজনা আরও চরম আকার ধারণ করে। চলতি মার্চের শুরুতে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন এ যুদ্ধের বিরোধিতা করায় স্পেনকে স্বৈর শাসকদের সহযোগী অভিযুক্ত করে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ইসরায়েল ও আমেরিকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর ইরানে ব্যাপক আকারে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ সামরিক অভিযান শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল। পারমাণবিক স্থাপনা ধংস, ক্ষেপনাস্ত্র সক্ষমতা গুড়িয়ে দেয়া, দেশের সরকার ও শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষে সামরিকে আগ্রাসন শুরু করে আমেরিকা ও ইসরায়েল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে এ যৌথ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিতিশীল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ হামলার প্রতিশোধে ইরান অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪ শুরু করে ইতোমধ্যে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে ২৭ টি মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
সূত্র: রয়টার্স।

