ইরানে সামরিক আগ্রাসনে আমেরিকা ও ইসরায়েল: হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের আহ্বানে মিত্রদের নীরবতা, ব্রিটেন, জার্মানি, গ্রিসের না, জাপানের প্রত্যাখ্যান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ কৌশলগত জলপথটি সচল ও নিরাপদ রাখতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন মিত্র দেশগুলোকে নিজেদের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর জন্য জরুরি আহ্বান জানিয়েছে। তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং যুদ্ধের ভয়াবহতা বিবেচনায় অধিকাংশ রাষ্ট্র ট্রাম্পের এ প্রস্তাবে সরাসরি সাড়া না দিয়ে এক ধরনের নীরবতা পালন করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ টি তেলের ট্যাংকারে হামলার খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। প্রায় এক হাজার তেলের ট্যাংকার এখন হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়ে আছে। সাহস থাকলে জাহাজ পাঠান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নৌবাহিনী ধ্বংসের দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাল ইরান।

            আলজাজিরায় প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদনে জানায়, কীভাবে ইরান এ জলপথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেশভেদে ভিন্ন নীতি গ্রহণ করছে এবং ট্রাম্পের সামরিক জোট গঠনের চেষ্টা কেন এখন পর্যন্ত সফলতার মুখ দেখছে না। ট্রাম্পের আহ্বান নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ এ ট্রাম্প লিখেছে, ‘চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ব্রিটেন যেন দ্রুত এ এলাকায় জাহাজ পাঠায়। ইরান বর্তমানে চরম বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে। তাই হরমুজ প্রণালি আর হুমকির কারণ হওয়া উচিত নয়। হরমুজ প্রণালিকে নিরাপদ রাখতে চীন, জাপান ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প। অধিকাংশ দেশ এ যুদ্ধে সরাসরি জড়াতে চাইছে না। ট্রাম্প প্রশাসন একটি আন্তর্জাতিক সামরিক জোট গঠনের চেষ্টা করলে মিত্র দেশগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো জোরালো প্রতিশ্রুতি মেলেনি।

            অপরদিকে যুক্তরাজ্য কোনোভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে না সাফ জানিয়ে দিয়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারির পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে নিজ দেশের না জড়ানোর বিষয়ে এ মন্তব্য করেছে। ইরানের যুদ্ধের সঙ্গে ন্যাটোর কোনো সম্পর্ক নেই তা জানিয়েছে জার্মানি। জার্মানি এ যুদ্ধে অংশ নেবে না এবং সামরিক উপায়ে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার কোন অভিযানে যোগ দেবে না। যতদিন এ যুদ্ধ চলবে, জার্মানি কোনোভাবে এতে অংশ নেবে না। এমনকি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালি সচল রাখার কোন প্রচেষ্টাতে অংশগ্রহণ থাকবে না। একইভাবে গ্রিস হরমুজ প্রণালিতে কোন ধরনের সামরিক অভিযানে জড়াবে না।

            অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ-ট্যাংকার জাহাজগুলোকে পাহারা দিতে জাপান যে ৬ মিত্রদেশকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তা ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে জাপান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিতে সেখানে নিজেদের নৌবাহিনীর কোনো জাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা টোকিওর নেই। গতকাল ১৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প এ কাজে জাপান মিত্র ৬ দেশকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বাকি দেশগুলো হলো চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ব্রিটেন।

            গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ইসরায়েল ও আমেরিকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর ইরানে ব্যাপক আকারে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ সামরিক অভিযান শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল। পারমাণবিক স্থাপনা ধংস, ক্ষেপনাস্ত্র সক্ষমতা গুড়িয়ে দেয়া, দেশের সরকার ও শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষে সামরিকে আগ্রাসন শুরু করে আমেরিকা ও ইসরায়েল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে এ যৌথ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিতিশীল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ হামলার প্রতিশোধে ইরান অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪ শুরু করে ইতোমধ্যে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে ২৭ টি মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।

সূত্র: আলজাজিরা, এএফপি।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *