ইরানে সামরিক আগ্রাসনে আমেরিকা ও ইসরায়েল: মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার ‘হুমকি’ মার্কিন ঘাঁটি, মার্কিন ব্যাংকে হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঘাঁটি ও সৈন্য উপস্থিতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইরান। শনিবার দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

            সামাজিক যোগাযো গমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, এ যুদ্ধ একটি বিষয় খুব পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করেছে। আমাদের অঞ্চলে থাকা আমেরিকান ঘাঁটিগুলো কাউকে সুরক্ষা দেয় না বরং এগুলো হুমকি। তিনি আরো বলেন, আমেরিকা ইসরায়েলের জন্য সবাইকে কোরবানি দেয় এবং ইসরায়েল ছাড়া আর কারও ব্যাপারে তাদের কোন মাথাব্যথা নেই। আমেরিকার ওপর নির্ভর করে বা তাদের আশ্রয়ে যারা থাকে তারা আক্ষরিক অর্থে নগ্ন কিংবা অরক্ষিত।

            অপরদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ব্যাংকের শাখায় ইরানের হামলা ছিল মূলত প্রতিশোধমূলক। ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র সরদার নাইনি এ মন্তব্য করেছে। দুবাই আন্তর্জাতিক ফিন্যান্সিয়াল সেন্টার এলাকায় পরপর দুটি হামলার ঘটনার পর দুবাইয়ে অবস্থিত সিটিগ্রুপ এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের মতো বড় মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

            দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজকে তিনি বলেছে, দুটি ইরানি ব্যাংকে শত্রুপক্ষের (যুক্তরাষ্ট্র) হামলার জবাবে আমেরিকান ব্যাংকের শাখাগুলোতে এ হামলা চালানো হয়েছে। সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ যদি একই ধরনের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটায়, তাহলে এ অঞ্চলে অবস্থিত সব আমেরিকান ব্যাংকের শাখা আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

            এদিকে, এমন পরিস্থিতিতে এইচএসবিসি ব্যাংক কাতারে তাদের সব শাখা বন্ধ করে দিয়েছে এবং এ অঞ্চলে তাদের কর্মীদের জন্য বাসা থেকে কাজ করার নীতি কার্যকর করেছে।

            গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ইসরায়েল ও আমেরিকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর ইরানে ব্যাপক আকারে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ সামরিক অভিযান শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল। পারমাণবিক স্থাপনা ধংস, ক্ষেপনাস্ত্র সক্ষমতা গুড়িয়ে দেয়া, দেশের সরকার ও শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষে সামরিকে আগ্রাসন শুরু করে আমেরিকা ও ইসরায়েল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে এ যৌথ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিতিশীল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ হামলার প্রতিশোধে ইরান অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪ শুরু করে ইতোমধ্যে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে ২৭ টি মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।

সূত্র: এএফপি।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *