ইরানে সামরিক আগ্রাসনে আমেরিকা ও ইসরায়েল: মার্কিন যুদ্ধের সমালোচনায় ইতালির মেলোনি, ইসরায়েল থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারে স্পেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনে কঠোর সমালোচনা করেছে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। বুধবার (১১ মার্চ) এ যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতা বহির্ভূত ক্রমবর্ধমান ও বিপজ্জনক হস্তক্ষেপের অংশ এ অভিহিত করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

            প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতালির পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তৃতায় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের সমালোচনা করেছে মেলোনি। তার ডানপন্থী সরকার মিত্রদের প্রতি অত্যন্ত নমনীয় আচরণ করছে এ দেশটির বিরোধী দলগুলোর অভিযোগের মাঝে এ সমালোচনা করেন তিনি। সংসদে এ সঙ্কট নিয়ে আলোচনার সময় মেলোনি মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের সঙ্গে রাশিয়ার ২০২২ সালের ইউক্রেন আক্রমণের তুলনা করেন। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা আরও বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় হুমকিগুলো ক্রমশ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতা বহির্ভূত একতরফা হস্তক্ষেপ বাড়ছে।

            মেলোনি বলেন, তেহরানের হামলার শিকার উপসাগরীয় দেশগুলোকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে সহায়তা করছে রোম। এটি শুধু এ কারণে নয় যে তারা ইতালির বন্ধুরাষ্ট্র ও কৌশলগত অংশীদার, বরং এ অঞ্চলে আমাদের কয়েক হাজার ইতালীয় নাগরিক রয়েছে। যাদের আমাদের রক্ষা করতে হবে। এ ছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলে ইতালির প্রায় ২ হাজার সৈন্য মোতায়েন রয়েছে।

            অপরদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বিরোধিতা করায় দেশ দু’টির সঙ্গে স্পেনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন ব্যাপক জটিল আকার ধারণ করেছে। এর জেরে ইসরায়েল থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে স্পেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

            স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরায়েলে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের পদের অবসান ঘটানো হয়েছে। নিকট ভবিষ্যতে তেল আবিবে তাদের দূতাবাস এক জন ‘চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স’ বা অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান দ্বারা পরিচালিত হবে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে কূটনৈতিক বিবাদের জেরে ইসরায়েল থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠায় স্পেন। গাজা যুদ্ধে ব্যহারের জন্য ইসরায়েলি অস্ত্র বহনকারী যেকোন বিমান কিংবা জাহাজ স্পেনের বন্দর অথবা আকাশপথ ব্যবহার করতে পারবে না এ নিষেধাজ্ঞা দেয় দেশটি।

            ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। রাষ্ট্রদূতের পদের এ অবসান সে দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক লড়াইয়ের সর্বশেষ বহিঃপ্রকাশ। এর আগে, গত মে মাসে স্পেন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিবাদে ইসরায়েল তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে উত্তেজনা আরও চরম আকার ধারণ করে।

            গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ইসরায়েল ও আমেরিকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর ইরানে ব্যাপক আকারে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ সামরিক অভিযান শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল। পারমাণবিক স্থাপনা ধংস, ক্ষেপনাস্ত্র সক্ষমতা গুড়িয়ে দেয়া, দেশের সরকার ও শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষে সামরিকে আগ্রাসন শুরু করে আমেরিকা ও ইসরায়েল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে এ যৌথ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ হামলার প্রতিশোধে ইরান অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪ শুরু করে ইতোমধ্যে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে ২৭ টি মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।

সূত্র: রয়টার্স।

 

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *