ইরানে সামরিক আগ্রাসনে আমেরিকা ও ইসরায়েল: রাডার ব্যবস্থা অকেজো, ক্ষেপণাস্ত্র ড্রোন শনাক্ত করতে পারছে না, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সদরদপ্তরে হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলায় ইসরায়েলি বাহিনীর রাডার ব্যবস্থা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যে কারণে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও আঘাতের সময় নির্ধারণ করতে পারছে না ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

            প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় শত্রু পক্ষের বেশ কয়েকটি শনাক্তকরণ কেন্দ্র ধ্বংস হওয়ায় ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শনাক্ত করার সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে এখন ইসরায়েলজুড়ে প্রায় অকারণে সাইরেন বেজে উঠছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সাইরেন না বাজলে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র আসছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছে না। আবার যখন ইরান থেকে উৎক্ষেপণের সতর্কতা সংকেত দেখা যাচ্ছে, তখন তারা নিশ্চিত হতে পারছে না যে সত্যি কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে কি না। এটি বড় ধরনের পরিবর্তন। যা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।

            ইসরায়েলি একটি সূত্র বলেছে, ইরান থেকে উৎক্ষেপিত কিছু ক্ষেপণাস্ত্র কোনো ধরনের পূর্ব-সতর্কতা বা প্রস্তুতি ছাড়া ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় কোনো ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সাড়া দিতে পারেনি। এমনকি এমন ঘটছে, ইরান থেকে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা না হলে সাইরেন বেজে উঠছে।

            অন্যদিকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেটের সদরদপ্তর এবং বিমান ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। ইরানের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে হামলা চালানোর দাবি করা হয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর সদস্যরা ড্রোন ব্যবহার করে ইসরায়েলের দু’টি বিমানঘাঁটি এবং তেল আবিবে অবস্থিত ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেটের সদরদপ্তরে হামলা চালিয়েছে।

            ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ বলছে, এ হামলায় ভূমধ্য সাগরীয় উপকূলীয় শহর ইভনের পশ্চিমের পালমাহিম বিমানঘাঁটি এবং দক্ষিণ ইসরায়েলের ওভদা বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।

            গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ইসরায়েল ও আমেরিকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর ইরানে ব্যাপক আকারে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ সামরিক অভিযান শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল। পারমাণবিক স্থাপনা ধংস, ক্ষেপনাস্ত্র সক্ষমতা গুড়িয়ে দেয়া, দেশের সরকার ও শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষে সামরিকে আগ্রাসন শুরু করে আমেরিকা ও ইসরায়েল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে এ যৌথ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ হামলার প্রতিশোধে ইরান অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪ শুরু করে ইতোমধ্যে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে ২৭ টি মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।

সূত্র: আল জাজিরা, এএফপি, তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *