
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলি ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলো লক্ষ্য করে নতুন করে বড় ধরনের হামলা শুরু করেছে ইরান। যুদ্ধের ১২ দিনে গত কয়েক ঘণ্টায় ৩৭ দফার হামলা চালানো হয়। বুধবার (১১ মার্চ) নতুন করে বড় ধরনের হামলা ঘটনা ঘটেছে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এটিই ছিল ইরানের চালানো সবচেয়ে তীব্র এবং শক্তিশালী হামলা।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোঁড়া বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। পরবর্তী এক নির্দেশনায় বলা হয়, পরিস্থিতি এখন নাগরিকদের জন্য নিরাপদ এবং তারা আশ্রয়কেন্দ্র (শেল্টার) থেকে বেরিয়ে আসতে পারে।
সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের একটি তেলক্ষেত্রের দিকে ধেয়ে আসা দুটি ড্রোন তারা আকাশে ধ্বংস করেছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোঁড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে। এ সব ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন কোথা থেকে বা কার পক্ষ থেকে ছোঁড়া হয়েছে, সে বিষয়ে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অংশ কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আইআরজিসির পরিচালিত সংবাদ মাধ্যম সিপাহ নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সিপাহ নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের প্রধান কেন্দ্রে মিনা সালমান বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হেনেছে। একই সময়ে কুয়েতের ক্যাম্প প্যাট্রিয়ট ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে মোহাম্মদ আল-আহমদ এবং আলী আল-সালেম নৌঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের সরঞ্জামের হ্যাঙ্গার, আবাসন এবং সমাবেশ কেন্দ্রগুলো ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে।
এছাড়া কুয়েতের ক্যাম্প বুহরিং ঘাঁটিতেও হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের এই বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। এর আগে, একই দিনে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। এ হামলায় বিমানবন্দরের কাছে ইরানের ছোড়া দুটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। এতে এক বাংলাদেশি প্রবাসী অন্তত চারজন আহত হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ইসরায়েল ও আমেরিকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর ইরানে ব্যাপক আকারে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ সামরিক অভিযান শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল। পারমাণবিক স্থাপনা ধংস, ক্ষেপনাস্ত্র সক্ষমতা গুড়িয়ে দেয়া, দেশের সরকার ও শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষে সামরিকে আগ্রাসন শুরু করে আমেরিকা ও ইসরায়েল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে এ যৌথ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ হামলার প্রতিশোধে ইরান অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪ শুরু করে ইতোমধ্যে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে ২৭ টি মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
সূত্র: বিবিসি, এএফপি।

