
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে যাবে ইরান এবং যতদিন প্রয়োজন হয় ততদিন হামলা অব্যাহত থাকবে। সোমবার (৯ মার্চ) ট্রাম্পের এ সংবাদ সম্মেলনের কিছু সময় পর মার্কিন সংবাদ মাধ্যম পিবিএস নিউজকে সাক্ষাৎকার দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী সৈয়দ আরাগচি। সে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গোলাগুলি অব্যাহত আছে এবং আমাদের পূর্ণ প্রস্তুতি আছে। যতক্ষণ প্রয়োজন হয়, আমরা আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে শত্রুদের ওপর আঘাত হানতে প্রস্তুত আছি। ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনায় যেতে তেহরান আর আগ্রহী নয় সাক্ষাৎকারে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পররাষ্ট্র মন্ত্রী সৈয়দ আরাগচি বলেছে, মার্কিনিদের সঙ্গে এর আগে কয়েকবার আমরা সংলাপে বসেছি। সে সব অভিজ্ঞতা খুব তিক্ত। আমরা আর সে সব অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি চাই না। (যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে) আলোচনা আর আমাদের এজেন্ডার তালিকায় নেই।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়া শেষ হয় সে সংলাপ। তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল। এ হামলার প্রতিশোধে ইরান অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪ শুরু করে ইরানের সামরিক বাহিনী। যুদ্ধের প্রথম দিন ২৮ অক্টোবর নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও ইরানের অন্তত ৪০ জন সামরিক ও বেসামরিক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা।

অপরদিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীকে মোকাবিলা করার জন্য অপেক্ষা করছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আইআরজিসি মুখপাত্র মেজর জেনারেল আলী মোহাম্মদ নাইনি এ তথ্য জানিয়েছে। মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সাংবাদ মাধ্যমেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেজর জেনারেল নাইনি বলেছে, ইরান প্রজাতন্ত্রের প্রতিরক্ষা বাহিনী হরমুজ প্রণালি এলাকায় মার্কিন নৌবাহিনী এবং বিমানবাহী রণতরী গেরাল্ড ফোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে।
গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালির জলপথ জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ থাকবে। ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে, তাহলে বর্তমানের চেয়ে ইরানে ২০ গুণ বেশি হামলা হবে এ হুমকি দিয়েছে।
এর আগে তিনি বলেছিলেন, তার প্রশাসন হরমুজ প্রণালি দখলের চেষ্টা করার পরিকল্পনা করছে এবং ‘প্রয়োজনে’ ট্যাঙ্কার জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা প্রহরা (এসকোর্ট) দেবে মার্কিন নৌবাহিনী।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ইসরায়েল ও আমেরিকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর ইরানে ব্যাপক আকারে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ সামরিক অভিযান শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল। পারমাণবিক স্থাপনা ধংস, ক্ষেপনাস্ত্র সক্ষমতা গুড়িয়ে দেয়া, দেশের সরকার ও শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষে সামরিকেআগ্রাসন শুরু করে আমেরিকা ও ইসরায়েল। তেহরানে নতুন করে আরও বড় ধরনের হামলা শুরু হয়েছে জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে এ যৌথ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ হামলার প্রতিশোধে ইরান অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪ শুরু করে ইতোমধ্যে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে ২৭ টি মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
সূত্র: এএফপি, সিএনএন

