
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণা করেছে। তিনি সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দ্বিতীয় সন্তান। সোমবার (৯ মার্চ) বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ৩ টার দিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম জানায় নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনিকে নির্বাচিত করা হয়েছে। দেশটির ৮৮ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব নিয়ে গঠিত অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট সুপ্রিম লিডার নির্বাচন করে। তারা সর্বশেষ ভোটাভুটিতে মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা বেঁছে নিয়েছে। অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট নতুন নেতার প্রতি সবাইকে সমর্থন জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের ও সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ, জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মহাসচিব আলি লারিজানি মোজতবার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে।
আলজাজিরা জানিয়েছে, মোজতবা কখনো কোনো সরকারি দায়িত্ব পালন করেননি এবং কোনো নির্বাচনে অংশ নেননি। কিন্তু তার বাবা সুপ্রিম লিডার থাকার সময় ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তার বেশ প্রভাব ছিল। তিনি ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। তার বাবা বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে তাকে পরবর্তী সুপ্রিম লিডার দেখা হচ্ছিল। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা নিজে অবশ্য কখনো এ নিয়ে আলোচনা করেননি।
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে। তারা নতুন নেতাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে বিপ্লবী গার্ড বলেছে, আমরা মোজতবা খামেনির প্রতি আজীবন আনুগত্য ও আন্তরিক থাকব। এছাড়া তিনি যে নির্দেশনা দেবে সেটি বাস্তবায়নে প্রস্তুত থাকব।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী মোজতবাকে জ্ঞানী, ন্যায়পরায়ণ, ধার্মিক এবং বিচক্ষণ অভিহিত করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় স্ত্রী, মেয়ে, উচ্চপদস্থ অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তারা ও আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর দেশটির প্রথম সুপ্রিম লিডার হন আয়াতুল্লাহ খোমেনি। এরপর তার মৃত্যুর পর এ দায়িত্ব পান আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। হামলায় নিহত হওয়ার পর তার ছেলে ইরানের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা

