
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি যৌথ অভিযানের পঞ্চম দিনে ইরানে নিহতের সংখ্যা ১,২০০ ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার তেহরান ও ইরানের পবিত্র শহর কোম, ইসফাহান এবং দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভিন্ন নিরাপত্তা স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। জবাবে ইরান পাল্টা হামলা করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দিয়েছে।
ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় আবাসিক ভবনগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস-এর (IRGC) আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’এর ভবন এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমান্ডের কার্যালয়গুলোকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালিয়েছে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে এখন পর্যন্ত ১,২০০ জন নিহত হয়েছে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর ১৯ তম দফার হামলা: ইরানের প্রেস টিভি এবং আইআরজিসি (IRGC) সংশ্লিষ্ট বার্তা সংস্থা তাসনিম এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে তাদের ১৯ তম দফার হামলা শুরু করেছে।
তাসনিম নিউজ আইআরজিসি উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, এ সর্বশেষ হামলায় ইসরায়েল এবং এ অঞ্চলে অবস্থিত ‘আমেরিকান সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলো’ লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। বিপ্লবী গার্ড বাহিনী তাদের এ সামরিক অভিযানের নাম দিয়েছে ট্রু প্রমিজ-৪। বৈরুতের দক্ষিণ উপশহর দাহিয়েতে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর ধোঁয়া উড়ছে
পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) জানিয়েছে, ইসফাহানের পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছের দুটি ভবনে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা গেছে। মূল পারমাণবিক স্থাপনা বা তেজস্ক্রিয় পদার্থের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং বিকিরণের কোনো ঝুঁকি নেই।
খামেনির জানাজা ও উত্তরসূরি নির্বাচন
হুমকি ও পাল্টা হুমকি: ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছে, ইরানের পরবর্তী নেতা যে হোন না কেন, তিনি যদি ইসরায়েল ধ্বংসের পরিকল্পনা করেন, তাকে নির্মূল করা হবে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছে, তেহরানের নেতৃত্ব এখন বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা এখন খুব শক্তিশালী অবস্থানে আছি। যারা নেতা হতে চাচ্ছে, তারা শেষ পর্যন্ত মারা যাচ্ছে।
হুমকির জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সিনিয়র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল শেকারচি বলেছে, লেবাননে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসে ইসরায়েল কোনো ধরনের হামলা চালালে তার চূড়ান্ত জবাব দেওয়া হবে। যার মধ্যে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ইসরায়েলি দূতাবাসগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ অপরাধী চক্র বারবার তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সীমানা এবং প্রচলিত রীতিনীতির প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করে আসছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছে, ট্রাম্প কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তিনি আলোচনার টেবিলকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ইসরায়েল ও আসেরিকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর ইরানে ব্যাপক আকারে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। পারমাণবিক স্থাপনা ধংস, ক্ষেপনাস্ত্র সক্ষমতা গুড়িয়ে দেয়া, দেশের সরকার ও শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষে সামরিক অভিযান শুরু করে আমেরিকা ও ইসরায়েল। তেহরানে নতুন করে আরও বড় ধরনের হামলা শুরু হয়েছে জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে এ যৌথ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হামলার প্রতিশোধে ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে ২৭ টি মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
সূত্র: আল-জাজিরা।

