
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তুরস্কভিত্তিক সশস্ত্রগোষ্ঠী কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি পিকেকে সরকারের সঙ্গে ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে সংঘাতের পর নিজেকে ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পিকেকে এ সিদ্ধান্ত শুধু কুর্দিভাষী জনগণের জন্য নয়, বরং তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক রাজনীতির জন্য একটি বড় সুখবর। গোষ্ঠীটির একাধিক নেতা ও তুরস্কের কয়েক জন রাজনীতিবিদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
রয়টার্স প্রতিবেদনে জানায়, সম্প্রতি ইরাকে গোষ্ঠীটির ১২ তম সম্মেলন (কংগ্রেস) হয়েছে। সেখানে সশস্ত্র সংগ্রামের পথ পরিহার এবং সংগঠন হিসেবে পিকেকে বিলুপ্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ইস্যুতে পিকেকে এক জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। ইতোমধ্যে পিকেকে যাবতীয় সামরিক অপারেশন বন্ধ করা হয়েছে এবং অস্ত্র জমা দেওয়ার ব্যাপারে আঙ্কারার সঙ্গে আলোচনা চলছে। আঙ্কারার সঙ্গে পিকেকে এ সমঝোতার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা রেখেছে তুরস্কের কুর্দিপন্থি রাজনৈতিক দল ডিইএম পার্টি। এ দলটি তুরস্কের তৃতীয় বৃহত্তম দল। পিকেকে কারাবন্দি শীর্ষ নেতা আবদুল্লাহ ওচালানের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকের পর তিনি পিকেকে বিলুপ্তির ব্যাপারে রাজি হয়েছে।
কুর্দিদের জন্য একটি পৃথক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের দাবিকে সামনে রেখে ১৯৮৪ সাল জন্ম হয় কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকে। একই বছর থেকে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে গোষ্ঠীটি। তুরস্কে পিকেকের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি ছিল। পিকেকে সঙ্গে সংঘাতে গত ৪ দশকে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে তুরস্কে। আধুনিক কুর্দিস্তান বলতে যে অঞ্চলটিকে বোঝায়, সেটি তুরস্কের পূর্বের কিছু অংশ, উত্তর ইরাক, দক্ষিণপশ্চিম ইরান ও উত্তর সিরিয়া এ চারটি দেশের কুর্দিভাষী অঞ্চলগুলোর মধ্যে বিস্তৃত। তুরস্কে এর আয়তন সবচেয়ে বেশি, কুর্দিভাষী জনগণের সংখ্যা বেশি। দেশটির মোট ৮ কোটি ৫০ লাখ জনসমষ্টির মধ্যে কুর্দিদের হার ২০ শতাংশ। তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো এ পিকেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তকমা দিয়েছে।
এর আগে গত মার্চের প্রথম দিকে পিকেকের কারাবন্দি নেতা আবদুল্লাহ ওচালানের এক ঐতিহাসিক আহ্বানে সাড়া দিয়ে তুরস্কের সরকারের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল পিকেকে। পিকেকে শীর্ষ নেতা আবদুল্লাহ ওচালান সে সময়ে নিকট ভবিষ্যতে দলটির বিলুপ্তির ইঙ্গি দিয়েছিলেন।
সূত্র : রয়টার্স

