
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমারে শাক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এ কম্পনের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৭। মিয়ানমারের পাশাপাশি থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক এ অঞ্চলের অন্যান্য স্থানে কম্পনের খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২৮ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। এদিকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ও বাণিজ্যনগরী চট্টগ্রাম ও বিভিন্নস্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। স্থানীয় সময় দুপুর ১২:৫০ মিনিটে সাগাইং শহরের ১৬ কিলোমিটার (১০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে ১০ কিলোমিটার গভীরে এ ভূমিকম্প আঘাত হানে বিষয়টি ইউএসজিএস জানিয়েছে। এদিকে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে চীনে। চীনের ভূমিকম্প নেটওয়ার্ক সেন্টার (সিইএনসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.৯। চীনা সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুসারে, সিইএনসি-এর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলা হয়েছে, ইউনানে কম্পন অনুভূত হয়েছে। এদিকে চট্টগ্রামের বিভিন্নস্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি বিষয়ক ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারি জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৯। যার উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের সাগাইন জেলা থেকে ৩৪ কিলোমিটার পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে যার গভীরতা ১০ কিলোমিটার।
আল জাজিরা বলছে, গৃহযুদ্ধের মধ্যে থাকা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ দেশটিতে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
বার্তাসংস্থা এএফপি মিয়ামারের রাজধানী নেপিদো থেকে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের তীব্রতায় রাস্তাঘাট স্তব্ধ হয়ে গেছে এবং ভবন থেকে ছাদের টুকরো ভেঙে পড়েছে। অন্যদিকে প্রতিবেশী থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে কম্পন অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের জেরে সেখানকার ভীতসন্ত্রস্ত বাসিন্দারা উঁচু ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) অনুসারে মিয়ানমারে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। থাইল্যান্ড এবং এ অঞ্চলের অন্যান্য স্থানে শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে।

১০ হাজার থেকে ১ লাখ প্রাণহানির শঙ্কা: মিয়ানমারে ধ্বংসাত্মক যে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে তা গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী। দুর্যোগের মডেল অনুযায়ী, দেশটিতে এ ভূমিকম্পে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে থাকতে পারে এ আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইউএসজিএস বলছে, মিয়ানমারের ভূমিকম্পে ব্যাপক হতাহত এবং ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। দুর্যোগের মাত্রা ব্যাপক বিস্তৃত হতে পারে। মিয়ানমারের মান্দালয় শহর ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের নিকটবর্তী হওয়ায় সেখানে হতাহত বেশি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ শহরটিতে ১০ লাখের বেশি মানুষের বসবাস রয়েছে। মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন সরকার বলেছে, ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং আহত হয়েছেন ২ হাজারের বেশি। ইউএসজিএস বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে আঘাত হানা স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ এ ভূমিকম্পে সম্ভাব্য প্রাণহানির সংখ্যা ১০ হাজার থেকে এক লাখ হতে পারে।

মিয়ানমার ও ব্যাংককে জরুরি অবস্থা ঘোষণা: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমারে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৭। পরে সেখানে আরেকটি কম্পন অনুভূত হয়। দ্বিতীয় এ কম্পনের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৪। মিয়ানমারের পাশাপাশি থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক এ অঞ্চলের অন্যান্য স্থানে কম্পনের খবর পাওয়া গেছে। শক্তিশালী এ কম্পনের পর মিয়ানমারের ছয়টি অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে। ভূমিকম্পের পর ছয়টি অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে মিয়ানমারের সরকার। দেশটির সরকারি এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এছাড়া ভয়াবহ এ ভূমিকম্পের পর আন্তর্জাতিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে মিয়ানমার সরকার। অন্যদিকে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতের পর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা
সূত্র: এএফপি, বিবিসি।

