পল কাপুর দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী: বিদায় ডোনাল্ড লু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন পল কাপুর। ভারতপন্থি ও পাকিস্তান বিদ্বেষী পল ডোনাল্ড লুর স্থলাভিষিক্ত হবেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পল কাপুরকে এ পদে মনোনয়ন দিয়েছেন। যা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সিনেট অনুমোদন দেবে। এছাড়া পল কাপুর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতি পরিকল্পনার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত আছেন। ২০২০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতি পরিকল্পনার স্টাফের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময় তিনি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়, ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা ও যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক নিয়ে কাজ করেছেন। এছাড়া ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক বিষয়ক একাধিক বিষয় নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে।

            ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, পল কাপুরকে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ট্রাম্পের মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত করছে। যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে তাদের অবস্থানে কৌশলগত পরিবর্তন আনছে। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তানের ওপর নজর দিতে চায় তারা। ভারতীয় বংশোদ্ভূত পল কাপুর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্কুলের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ের প্রফেসর হিসেবে কাজ করছেন। পল কাপুর শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। অপরদিকে অ্যামহার্সট কলেজ থেকে বিএ সম্পন্ন করেছেন। এরআগে ক্লারমোন্ট মেকেনিয়া কলেজ এবং স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। পল কাপুর ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ার ব্যাপারে জোর দিয়ে থাকেন।

            আলবানি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী প্রফেসর ক্রিস্টোফার ক্ল্যারি জানিয়েছেন, কাপুর ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সারির কৌশলগত মিত্র হিসেবে মনে করেন। তিনি বলেছেন, ভারতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র যেসব আপত্তি তুলেছে, সেগুলো নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন পল কাপুর। তার মতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে ভারতকে নিয়ে আলোচনা করলে পাল্টা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে। অপরদিকে পাকিস্তানের কড়া সমালোচক তিনি। পাকিস্তানকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ মনে করেন পল কাপুর । কাপুর ডোনাল্ড লুর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর পাকিস্তানের প্রতি কঠোর অবস্থান নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। আগের প্রশাসনগুলো ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করে চলার চেষ্টা করেছে।

সূত্র: বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *