ইরানের বিক্ষোভ নিয়ে সানডে টাইমসের প্রতিবেদন: ১৬ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত, ইরানের স্বীকার ৫ হাজার

ফিচার ডেস্ক: ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে সাড়ে ১৬ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। দেশটির চিকিৎসকদের বরাতে রোববার (১৮ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম সানডে টাইমস। ইরানি কর্তৃপক্ষ দেশটিতে বিভিন্ন সময়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির জন্য বিদেশি শত্রুদের দায়ী করে থাকে। এর মধ্যে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কট্টর বিরোধী প্রতিদ্বন্দ্বী ইসরায়েল রয়েছে। গত বছরের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক বিক্ষোভ-সহিংসতায় উসকানি ও অস্ত্র সরবরাহ করেছে এ অভিযোগ করেছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

            ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম সানডে টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের বেশিরভাগের বয়স ৩০ বছরের কম এবং তরুণ। এছাড়া বিক্ষোভে আহত হয়েছেন প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষ। বেশিরভাগ মানুষ নিহত হয়েছে দুইদিনের ব্যবধানে। ইরানি-জার্মান চক্ষু চিকিৎসক প্রফেসর আমির পারাস্তা সানডে টাইমসকে বলেছে, এটি অন্য মাত্রার নৃশংসতা। এবার তারা মিলিটারি গ্রেডের অস্ত্র ব্যবহার করেছে। আমরা মাথা, গলা এবং বুকে গুলি এবং শার্পনেলের আঘাত দেখতে পেয়েছি। এ প্রফেসর আরও বেশ কয়েকজন চিকিৎসককে একত্রিত করেছে। যারা এ সহিংসতার তথ্য জানিয়েছে। সানডে টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের বড় আটটি চক্ষু হাসপাতাল এবং ১৬ টি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হতাহতের এ সংখ্যা পাওয়া গেছে। এ চিকিৎসকরা সাধারণ ইন্টারনেট বন্ধ থাকা সত্ত্বে নিষিদ্ধ স্টারলিংকের ইন্টারনেট ব্যবহার করে যোগাযোগ করতে সমর্থ হয়েছে এ দাবি করেছে সানডে টাইমস। আহতদের অনেকে চোখে আঘাত পেয়েছে এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিরাপত্তাবাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর শটগান ব্যবহার করেছে। গুলিতে প্রায় ৭০০ জন অন্ধ হয়ে গেছে। গত মাসের শেষ দিকে ইরানে এ বিক্ষোভ শুরু হয় এবং গত ৭ ও ৮ জানুয়ারি এটি সহিংস আকার ধারণ করে। এ সময় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন হওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়। এরপরই কঠোর অবস্থানে যায় দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী।

            যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ  বলেছে, ইরান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৩০৮ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া দেশটির নজিরবিহীন এ সংঘাতে আরও ৪ হাজার ৩৮২ জনের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। বিক্ষোভ চলাকালীন ইরানি কর্তৃপক্ষ ২৪ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে।

            নরওয়ে-ভিত্তিক ইরানি কুর্দিপন্থীদের মানবাধিকার সংগঠন হেঙ্গা বলেছে, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানের যে বিক্ষোভ শুরু হয়, তা সবচেয়ে সহিংস আকারে ছড়িয়ে পড়ে উত্তর-পশ্চিমের কুর্দি অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায়।

            অপরদিকে ইরানে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরকার বিরোধী বিক্ষোভে অন্তত ৫ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এটি প্রথমবারের মতো দেশটির সরকার স্বীকার করেছে। দেশটির আঞ্চলিক এক সরকারি কর্মকর্তা বিক্ষোভ সহিংসতায় হতাহতের শিকার লোকজনের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে কর্তৃপক্ষ এমন পরিসংখ্যান পেয়েছে এটি জানিয়েছে। দেশে চলমান বিক্ষোভে অন্তত ৫ হাজার মানুষের প্রাণহানির তথ্য কর্তৃপক্ষ যাচাই করেছে। নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ৫০০ সদস্য রয়েছেন। তিনি এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও সশস্ত্র দাঙ্গাবাজদের দায়ী করে বলেছে। তারা নিরীহ ইরানিদের হত্যা করেছে। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য দিয়েছে। তিনি বলেন, ইরানের উত্তর-পশ্চিমের কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত ও সর্বাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এ অঞ্চলে কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সক্রিয় রয়েছে এবং দেশটির অতীতের অস্থিতিশীলতার সময় সেখানে ভয়াবহ সহিংসতার রেকর্ড রয়েছে। বিক্ষোভ-সহিংসতায় প্রাণহানির চূড়ান্ত সংখ্যায় বড় ধরনের উল্লম্ফনের সম্ভাবনা নেই। একই সঙ্গে ইসরায়েল ও বিদেশে থাকা সশস্ত্র বিভিন্ন গোষ্ঠী রাস্তায় নামা লোকজনকে সমর্থন ও অস্ত্র সরবরাহ করেছে এ অভিযোগ করেছে তিনি।

            গত মাসের শেষ দিকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং গত ৭ ও ৮ জানুয়ারি তা সহিংস আকার ধারণ করে। এ সময় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের শঙ্কা তৈরি হয়। দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী কঠোর অবস্থানে যাওয়ায় বর্তমানে বিক্ষোভ প্রায় স্থিমিত হয়ে পড়েছে।

সূত্র: রয়টার্স, সানডে টাইমস।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *