ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ: ভারতীয় আধিপত্য বিরোধীদের ভয় দেখানোর উদ্দেশ্য হাদিকে গুলি-সারজিস আলম

জাতীয় ডেস্ক: ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ২ টা ৩৫ মিনিটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণাকালে তাকে গুলি করা হয়। গত মাসে (নভেম্বর) দেশি-বিদেশি ৩০ টি নস্বর থেকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি পেয়েছে এটি জানিয়েছিল হাদি। ১৪ নভেম্বর ফেসবুকে এক পোস্টে তার বাড়িতে আগুন দেওয়া এবং তার মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। গত তিন ঘণ্টায় তার নম্বরে আওয়ামী লীগের খুনিরা অন্তত ৩০ টা বিদেশি নম্বর থেকে কল ও টেক্স করেছে। যার সামারি হলো আমাকে সর্বক্ষণ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। তারা আমার বাড়িতে আগুন দেবে। আমার মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণ করবে এবং আমাকে হত্যা করবে।

            ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, তাকে যখন জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয় তার অবস্থা খুব আশঙ্কাজনক ছিল। পরে তাকে সিপিআর দেওয়া হয়। এখন একটু প্রেসার ভালো আছে। তবে তার মাথার ভেতরে গুলি আছে, কানের পাশে গুলি লেগেছে।

            ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সরব ব্যক্তিদের ভয় দেখাতেই ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়েছে এ অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। শুক্রবার রাতে পঞ্চগড় চৌরঙ্গী মোড়ে ছাত্র জনতার বিক্ষোভ মিছিলে এ মন্তব্য করেন তিনি। অভ্যুত্থানের আগে ও পরে দুই সময়ে শরিফ ওসমান হাদী ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সাহসী ভূমিকা রেখেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন পরিচয়ে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়েছে, যাদের লক্ষ্য দেশকে অস্থিতিশীল করা। জুলাইয়ে আমরা রক্ত দিয়ে যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম, সংকট এলে আমরা আবার ঐক্যবদ্ধ হবো। তিনি আরও বলেন, আমাদের সামনে শুধু ভোটের লড়াই নয়, বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। যারা বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে চাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

            বিক্ষোভে সারজিস আলম অভিযোগ করেন, আওয়ামী সন্ত্রাসী ও খুনিদের গ্রেপ্তারে কাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ইন্টারনাল আপোষ ও প্রটেকশন দিয়ে দেশে কোনো শান্তি আসবে না। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অনুরোধ করছি, সারা দেশে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে খুনি, সন্ত্রাসী, তাদের দোসর এবং দেশের বাইরে থেকে যারা ষড়যন্ত্র করছে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হোক। তিনি আরও বলেন, দিনে এক কথা, রাতে আরেক কথা এভাবে চললে কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। শরিফ ওসমান হাদীর ওপর হামলাকে তিনি ব্যক্তিগত হামলা হিসেবে না দেখিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা থামানোর ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেন। এ বুলেট শুধু হাদীর মাথায় নয়, বাংলাদেশের ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো অভ্যুত্থানের বুকে বিদ্ধ হয়েছে। এ হামলার মাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন কেন্দ্রিক প্রস্তুতি বানচালে একটি খেলা শুরু হয়েছে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ না থাকি, সামনে পথভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *