
ফিচার ডেস্ক: ১৯০১ সাল থেকে দেওয়া হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার নোবেল। সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নাম অনুসারে এ পুরস্কারটির নামকরণ করা হয়েছে। ঊনবিংশ শতকের এ বিজ্ঞানী শক্তিশালী বিস্ফোরক ডিনামাইট আবিষ্কার করে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছিল। তিনি উইল করে গিয়েছিল যে তার যাবতীয় অর্থ থেকে যেন প্রতি বছর পদার্থ, রসায়ন, চিকিৎসা, শান্তি ও সাহিত্য এ ৫ টি বিভাগের খাতে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ পুরস্কারের নামকরণ হবে নোবেল নামে। ১৯৬৯ সাল থেকে এ ৫ বিভাগের সঙ্গে যুক্ত হয় অর্থনীতি বিভাগে নোবেল পুরস্কার। প্রতিবছর প্রথমে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল ঘোষণা করে সুইডেনের স্টোকহোমের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট। নোবেলের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান হবে ১০ ডিসেম্বর। এ দিন আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকী। এ নোবেল জয়ী বিজ্ঞানীরা ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট থেকে পাবেন ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার (প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ডলার সমমূল্য), সঙ্গে থাকবে ১৮ ক্যারেটের সোনার পদক ও একটি সম্মাননা পত্র।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল ঘোষণা: চিকিৎসা বিদ্যায় অনবদ্য অবদান রাখায় চলতি বছর যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের তিন চিকিৎসা বিজ্ঞানী। সোমবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩ টায় সুইডেনের স্টকহোম থেকে ২০২৫ সালের চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট। পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স নিয়ে গবেষণার জন্য চলতি বছর তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসায় এ বছরের নোবেল বিজয়ীরা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক মেরি ই. ব্রাঙ্কো ও ফ্রেড রামসডেল এবং জাপানের শিমন সাকাগুচি।
ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট বলেছে, মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেমের কাজ হলো শরীরকে জীবাণু ও ভাইরাসের মতো বাইরের হুমকি থেকে রক্ষা করা। কখনও এ ব্যবস্থা ভুলবশত শরীরের নিজস্ব টিস্যুকে আক্রমণ করে বসে। যার ফলে দেখা দেয় অটোইমিউন রোগ। দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা মানবদেহের সেন্ট্রাল টলারেন্স বা কেন্দ্রীয় সহনশীলতার ধারণার ওপর গবেষণা করে আসছিলেন। এতে টি সেল নামের এক ধরনের প্রতিরোধক কোষ থাইমাসে গঠিত হওয়ার সময় শরীরের নিজস্ব উপাদানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখালে পরে তা ধ্বংস হয়ে যায়।

পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা: রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস পদার্থ বিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস। পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছে মার্কিন তিন বিজ্ঞানী। বৈদ্যুতিক বর্তনীর মধ্যে স্থূল কোয়ান্টাম যান্ত্রিক টানেলিং এবং শক্তির কোয়ান্টাইজেশন আবিষ্কারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন ক্লার্ক, মিশেল এইচ ডেভোরেট এবং জন এম মার্টিনিস এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি বলেছে, এ আবিষ্কার কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। আর এর পুরস্কার স্বরূপ তাদের নোবেলে ভূষিত করা হয়েছে। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অদ্ভুত এবং সাধারণত ক্ষুদ্রাতীত কণার আচরণগুলো কীভাবে আমাদের পরিচিত বড় আকারের মানব সৃষ্ট বস্তু বা অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যেতে পারে সেটি এ বছরের পদার্থে নোবেল পুরস্কারের বিষয় ছিল। পুরস্কারপ্রাপ্ত এ তিন বিজ্ঞানী তাদের ধারাবাহিক পরীক্ষার মাধ্যমে দেখিয়েছেন, যে এ ঘটনাটি সম্ভব। তারা এমন একটি অতিপরিবাহী বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা তৈরি করেন। যা একটি অবস্থা থেকে সরাসরি অন্য অবস্থায় ‘টানেল’ করে যেতে পারে। বিষয়টি দেখে মনে হয় যেন একটি জিনিস দেওয়ালের মধ্যে দিয়ে ভেদ করে চলে গেছে। তারা আরও দেখিয়েছেন যে এ ব্যবস্থাটি নির্দিষ্ট মাত্রার বা সুনির্দিষ্ট ডোজ এ শক্তি শোষণ করে এবং বিকিরণ করে। যা কোয়ান্টাম মেকানিক্সের ভবিষ্যদ্বাণীর সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।

রসায়ন বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা: রসায়ন বিজ্ঞানে বিশেষ অবদানের জন্য এ বছর নোবেল জিতেছে তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন সুসুমু কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন এবং ওমর এম ইয়াগি। বুধবার (৮ অক্টোবর) বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস। মেটাল অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক উদ্ভাবনের কারণে তাদের এ বছর রসায়নে নোবেল দেওয়া হয়েছে। সুসুমু কিতাগাওয়া জাপানের কিউটো বিশ্ববিদ্যালয়, রিচার্ড রবসন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ওমার এম ইয়াগি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।
নোবেল কর্তৃপক্ষ রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি জানিয়েছে, এ তিন জন বড় স্পেস এমন কিছু আণবিক কাঠামো তৈরি করেছেন, যেগুলোর মধ্য দিয়ে বিভিন্ন গ্যাস এবং অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ সহজে চলাচল করতে পারে। এ কাঠামোর নাম হলো মেটাল অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক। এগুলো ব্যবহার করে মরুভূমির বাতাস থেকে পানি সংগ্রহ, কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস ধরে রাখা, বিষাক্ত গ্যাস জমিয়ে রাখা এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার কাজ করা যায়। তাদের বানানো এ কাঠামোতে ধাতব আয়নগুলো কোণার খুঁটির মতো কাজ করে। আর সেগুলোকে যুক্ত করা হয় লম্বা জৈব (কার্বন-ভিত্তিক) অণু বা মলিকিউল দিয়ে। এ ধাতব আয়ন ও অণুগুলো একসঙ্গে মিলে এমন একধরনের স্ফটিক তৈরি করে যার ভেতরে অনেক বড় গহ্বর বা ছিদ্র থাকে। এ ছিদ্রযুক্ত পদার্থগুলোকে মেটাল অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্কস (এমএফও) বলা হয়। এমএফওর জন্য ব্যবহৃত উপাদানগুলো খুব সহজে রদবদল করা যায়। ফলে রসায়নবিদরা নিজেদের প্রয়োজনমতো কাঠামোটিকে নকশা করতে পারেন। এতে তারা নির্দিষ্ট পদার্থকে আটকে রাখতে পারেন। এছাড়া এ কাঠামো দিয়ে রাসায়নিক বিক্রিয়া ও বিদ্যুৎ পরিবহণ করা যায়।

সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা: এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন হাঙ্গেরিয়ান লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) তার নাম ঘোষণা করে সুইডিশ অ্যাকাডেমি। লাসলো ক্রাসনাহোরকাই ১৯৫৪ সালে রোমানিয়ার সীমান্তের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব হাঙ্গেরির ছোট শহর জিউলাতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৫ সালে লেখা নিজের প্রথম উপন্যাস সাতানটাঙ্গোর প্রেক্ষাপট হিসেবে এ শহরটিকে বেঁছে নিয়েছিলেন তিনি। এ উপন্যাসে হাঙ্গেরির গ্রামীণ এক পরিত্যক্ত খামারে থাকা দরিদ্র মানুষের কথা বলা হয়েছে। সমাজতন্ত্রের পতনের ঠিক আগমুহূর্তে যারা অনিশ্চয়তা ও নিরাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তার এ কর্ম হাঙ্গেরিতে আলোড়ন তৈরি করেছিল। পরবর্তীতে তা তার সাহিত্য ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করেছিল।
সুইডিশ অ্যাকাডেমি বলেছে, আকর্ষণীয় ও দূরদর্শী রচনার জন্য তাকে এ বছর সাহিত্যে নোবেল দেওয়া হয়েছে। তার লেখনি বৈশ্বিক ভয়াবহতার মধ্যে শিল্পের শক্তিকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে। তারা আরও বলেছে, লাসলো ক্রাসনাহোরকাই মধ্য ইউরোপীয় সাহিত্যের একজন মহাকাব্যিক লেখক। তার সাহিত্যকর্ম বিশ্বখ্যাত সাহিত্যিক কাফকা থেকে শুরু করে থমাস বার্নহার্ডের মতো লেখকদের দ্বারা অনুপ্রাণিত। তার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ২০০৩ সালের উপন্যাস এ মাউন্টেন টু দ্য নর্থ, এ লেক টু দ্য সাউথ, পাথস টু দ্য ওয়েস্ট, এ রিভার টু দা ইস্ট। উপন্যাসটি জাপানের কিয়োটোর একটি রহস্যময় কাহিনীকে বর্ণনা করেছে। উপন্যাসটি কাব্যিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ। এই উপন্যাসটির ওপর ভিত্তি করে তিনি তার বিশাল সাহিত্য সংকলন ‘সেইবো দেয়ার বিলো’ লেখেন। এতে রয়েছে ১৭ টি গল্প, যা এক বিশেষ বিন্যাসে সাজানো হয়েছে। গল্পগুলোতে এমন এক জগতের সৌন্দর্য ও শিল্পের স্থান নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যে জগৎ দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং এটির সৌন্দর্য উপলব্ধি করা যায় না। বইটির গল্পের সূচনা হয় কামো নদীর ধারে অপেক্ষারত একটি সাদা বকের মনোমুগ্ধকর চিত্র দিয়ে। বইটির মূল থিমটি জাপানের একটি পৌরাণিক কাহিনি থেকে এসেছে। যেখানে সেইবো নামের এক দেবী এমন এক বাগান পাহারা দেন যেখানে প্রতি তিন হাজার বছর পর অমরত্বের ফল ধরে। গল্পগুলো শিল্প সৃষ্টির প্রক্রিয়া নিয়ে অনুসন্ধান চালায়, যেখানে দেখানো হয় যে শিল্পের সৃষ্টি হয় দীর্ঘ প্রস্তুতি ও নিপুণ দক্ষতার মাধ্যমে। আবার কখনও অপ্রত্যাশিত ঘটনা এ সৃষ্টিকে প্রভাবিত করে।

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা: চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন ভেনেজুয়েলার মারিয়া কোরিনা মাচাদো। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) নরওয়ে ভিত্তিক নোবেল কমিটি বিজয়ীর নাম ঘোষণা করেছে। ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে উদ্বুদ্ধ করা এবং দেশটিকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে একনায়কতন্ত্র থেকে গণতান্ত্রিক পথে নেওয়ার আন্দোলনের জন্য তাকে নোবেল দেওয়া হয়েছে। ভেনেজুয়েলা একসময় তুলনামূলকভাবে গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল দেশ ছিল। কিন্তু দেশটি এখন এক নির্মম স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। যা এক ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটে ডুবে আছে। হাতেগোনা কিছু সুবিধাভোগী নিজেদের আখের গোছালে ভেনেজুয়েলার বেশিরভাগ মানুষ চরম দারিদ্র্যের শিকার। রাষ্ট্র তার হিংস্র দমন-পীড়ন ব্যবহার করছে দেশের সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে। এ কারণে প্রায় ৮০ লাখ ভেনেজুয়েলান নিজ দেশ ছেড়েছেন। নির্বাচন কারচুপি, মিথ্যে মামলা আর কারাদণ্ডের মাধ্যমে বিরোধী পক্ষকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে বিরোধী জোটের মনোনীত প্রার্থী হন মারিয়া। কিন্তু শাসকগোষ্ঠী ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তার প্রার্থিতা বাতিল করে দেয়। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তিনি ভিন্ন দলের প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেজ উররুটিয়াকে সমর্থন জানাতে পিছপা হননি। এরপর রাজনৈতিক মতবিরোধ ভুলে কয়েক লাখ স্বেচ্ছাসেবক একজোট হন। নির্বাচন যেন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়, সেটি নিশ্চিত করতে তাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। হয়রানি, গ্রেপ্তার বা অত্যাচারের মারাত্মক ঝুঁকি থাকা সত্ত্বে, সারা দেশের নাগরিকরা ভোটকেন্দ্রে কড়া নজরদারি বজায় রাখেন। তারা নিশ্চিত করেন যে চূড়ান্ত গণনা সঠিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে, যাতে সরকার ব্যালট নষ্ট করে মিথ্যা ফলাফল ঘোষণা করে জনগণের রায় চুরি করতে না পারে।
সুইডিশ অ্যাকাডেমি বলেছে, ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্র আন্দোলনের নেত্রী মারিয়া কোরিনা লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে সাহসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। গভীর বিভাজনে জর্জরিত দেশটির বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে তিনি। মুক্ত ও অবাধ নির্বাচন এবং জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের দাবিতে সকল বিরোধী শক্তি তার নেতৃত্বে এক কাতারে শামিল হয়েছিল। ভেনেজুয়েলায় বর্তমানে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানো প্রায় অসম্ভব। তা সত্ত্বে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে মারিয়া সবসময় তৎপর ছিলেন। তার সাহসী বক্তব্য ‘বুলেট নয়, আমরা ব্যালটকে বেছে নিয়েছি’ তাকে ব্যাপক আলোচিত করে তোলে। এরপর থেকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে এবং বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানুষের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্বের পক্ষে অবিরাম লড়াই করে চলেছেন। ভেনেজুয়েলার জনগণের মুক্তির জন্য তিনি বছরের পর বছর ধরে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।

অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা: এ বছর ২০২৫ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিনজন অর্থনীতিবিদ। তারা হল জোয়েল মোকির, ফিলিপ আগিয়োঁ ও পিটার হাউইট। উদ্ভাবন নির্ভর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাখ্যা করার জন্য তারা এ পুরস্কার পেয়েছেন। সোমবার (১৩ অক্টোবর) তাদের নাম ঘোষণা করেছে সুইডিশ অ্যাকাডেমি। এ তিন অর্থনীতিবিদের মধ্যে অর্ধেক পুরস্কার পেয়েছেন জোয়েল মোকির। প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধির পূর্বশর্তগুলো শনাক্ত করার জন্য তিনি পুরস্কার পেয়েছে। ‘সৃজনশীল বিনাশ’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধির তত্ত্ব দেওয়ার জন্য বাকি অর্ধেক পুরস্কার যৌথভাবে পেয়েছেন ফিলিপ আগিয়োঁ ও পিটার হাউইট।
সুইডিশ অ্যাকাডেমি বলেছে, উদ্ভাবন নির্ভর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তত্ত্ব আবিষ্কার ও ব্যাখ্যা করার জন্য এ তিন অর্থনীতিবিদকে নোবেল দেওয়া হয়েছে। এ তত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি। নোবেল বিজয়ীরা আমাদের শিখিয়েছে সব সময় প্রবৃদ্ধি হবে, এটা কখনো নিশ্চিত ধরে নেওয়া যায় না। মানব সভ্যতার ইতিহাসে প্রবৃদ্ধি নয়, বরং স্থবিরতা ছিল স্বাভাবিক অবস্থা। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, এ প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে হলে সম্ভাব্য হুমকিগুলো চিহ্নিত করে তা মোকাবিলা করতে হবে। ঐতিহাসিক উপাত্ত ও দলিল ব্যবহার করে মোকির দেখিয়েছেন, কীভাবে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও উদ্ভাবন এক সময় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে নিয়মিত বিষয়ে পরিণত করেছে। অন্যদিকে আগিয়োঁ ও হাউইট সে প্রবৃদ্ধির অন্তর্নিহিত প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছে। ১৯৯২ সালের এক প্রবন্ধে তারা গাণিতিক মডেলের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন, যখন নতুন ও উন্নত কোনো পণ্য বাজারে আসে, তখন পুরোনো পণ্য বিক্রি করা প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে টিকে থাকতে পারে না। এ প্রক্রিয়া অর্থনীতিতে ‘সৃজনশীল বিনাশ’ নামে পরিচিত। অর্থাৎ পুরোনো ব্যবস্থার ভেতর থেকে নতুন উদ্ভাবন হয়। এটি প্রণয়ন ও ব্যাখ্যার জন্য পুরস্কারের অর্ধেক পাবেন জোয়েল মোকির। তত্ত্বের অপর অংশ ‘সৃজনশীল বিনাশ’ (ক্রিয়েটিভ ডেসস্ট্রাকশন) প্রণয়ন ও ব্যাখ্যার জন্য পুরস্কারের বাকি অর্ধেক ভাগাভাগি করে নেবেন ফিলিপ আগিয়োঁ এবং পিটার হাউইট।

