ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস স্থাপন: উদ্বেগ প্রকাশ করে ২৪৪ জন শিক্ষক

জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশের ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনের কার্যালয় স্থাপনের ঘোষণায় ২৪৪ জন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের শিক্ষক উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) শিক্ষকেরা এ বিবৃতি  দিয়েছে। বিবৃতি দেওয়া ২৪৪ জন শিক্ষকের মধ্যে আছেন ৫০ জন প্রফেসর, ৪১ জন অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, ৭৮ জন অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর এবং ৭৫ জন লেকচারার। বিবৃতি দেওয়ার মধ্যে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ জন, সাস্টের ২০ জন, বুটেক্সের ১৮ জন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ৯ জন, আইইউবির ৬ জন, বুয়েটের ৪ জন, রুয়েটের ৪ জন, বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের ৪১ জন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের শিক্ষকরা আছেন। বিবৃতি দেওয়া শিক্ষকদের বিস্তারিত তালিকা www.mullobodh.com ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

            বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা, বাংলাদেশের শিক্ষক সমাজ, ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনের কার্যালয় স্থাপনের ঘোষণায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা মনে করি এ সিদ্ধান্ত দেশের সার্বভৌমত্ব, শিক্ষা-সংস্কৃতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনের ওপর দীর্ঘ মেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও মানবাধিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তবে জাতিসংঘের মানবাধিকার ধারণা অনেক ক্ষেত্রে আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পূর্বে দেখা গেছে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক অফিস পশ্চিমা অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহৃত হয়। যেমন এলজিবিটি, ইউনিফর্ম ফ্যামিলি কোড, গর্ভপাতের বৈধতা ইত্যাদি। ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ পরিপন্থি এসব বিষয় আমাদের পাঠ্যক্রমে চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থা, সমাজে বিভ্রান্তি ও সংকট তৈরির যৌক্তিক শঙ্কা আমাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে। এ অফিস প্রাথমিকভাবে ৩ বছরের একটি প্রজেক্ট দেখানো হলে বাস্তবে এটি দীর্ঘ মেয়াদে রূপ নিতে পারে। যা ভবিষ্যৎ সরকারের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথ সংকীর্ণ করে দিতে পারে।

            বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশ্বের যে সব দেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস রয়েছে, সেসব দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ। উপরন্তু সরকারের এ সিদ্ধান্ত জনগণের মতামত ও জাতীয় ঐক্যের পরিপন্থি। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনগণের মতামত, ধর্মীয় নেতৃত্ব, জাতীয় সংসদ ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত ছিল। দেশের শিক্ষা-সংস্কৃতি-সার্বভৌমত্ব এবং ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষার স্বার্থে আমরা এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।

            বিবৃতি দেওয়ার মধ্যে আছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রফেসর মুহাম্মদ ওমর ফারুক ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর মো. আব্দুস সবুর, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির লেকচারার আসিফ মাহতাব উৎস, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর শামীমা তাসনীম, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. মো. আরিফ মোর্শেদ খান, মেডিকেল কলেজ ফর ওমেন অ্যান্ড হসপিটালের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডাক্তার মিলিভা মোজাফফর, বুয়েটের প্রফেসর মো. মাসুদ করিম এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ড. মো. লামিউর রায়হানসহ অন্যান্য শিক্ষকরা।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *