চীনের মহাপ্রাচীর: বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের একটি বিখ্যাত যা মানুষের বিস্ময়কর

পর্যটন ডেস্ক: চীনের মহাপ্রাচীর নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। কেননা মানুষের হাতে নির্মিত এটি পৃথিবীর সব থেকে বড় স্থাপত্য। বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের একটি হলো চীনের এ মহাপ্রাচীর। ডিসেম্বরে বেইজিংয়ে কনকনে শীত পড়ে। রাতে কখনো তাপমাত্রা নেমে যায় মাইনাস ৫ ডিগ্রি। আর দিনে তাপমাত্রা থাকে ১ থেকে ৫ ডিগ্রি। এ তীব্র শীত ও গরমের সময় মধ্যে ভ্রমন করা যায় চীনের মহাপ্রাচীর। সৌভাগ্য ক্রমে কোন সময় চীন ভ্রমণে গেলে এ মহাপ্রাচীর পরিদর্শন করা যায়। চীনের রাজধানী বেইজিং থেকে মহাপ্রাচীরের বিভিন্ন অংশে গিয়ে দেখা যায়। প্রচীরের অনেকগুলো অংশ রয়েছে। তার মধ্যে একটি হল জুয়ংগুয়ান গ্রেট ওয়াল। বেইজিং থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে এ অংশটির অবস্থান। গ্রেটওয়াল বা মহাপ্রাচীরে প্রবেশ করতে হলে টিকিট প্রয়োজন হয়।

            আড়াই হাজার বছর আগে চীনের এ মহাপ্রাচীর সে সময়ের শাসকরা শত্রুর হাত থেকে রাজ্যকে রক্ষা করতে এ প্রাচীর নির্মাণকাজ শুরু করেন। প্রায় দুই হাজার বছর ধরে এ প্রাচীর নির্মাণ কার্যক্রম চলে। দীর্ঘ সময়ে নির্মিত হয় ২১ হাজার কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ প্রাচীর। আর সে প্রাচীর এখন বিশ্বের বিস্ময়। এখন এ মহাপ্রাচীর হয়ে উঠেছে বিখ্যাত ও আকর্ষনীয় পর্যটস ম্পট। এ মহাপ্রাচীর পাথরের সিঁড়ি বেয়ে যত ওপরে উঠা যায় তত বিস্ময়। শীতকালে ভ্রমণ হলে ভাল। তীব্র শীতের মধ্যে পাথরের খাড়া সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠা গরমের সমস্যা হয় না। প্রাচীরের দুপাশে পাহাড় আর জঙ্গল। কিছু দূর সিঁড়ি বেয়ে উঠলে দেখা মেলে চৌকি। এ সব চৌকি অনেকটা দুর্গের মতো। এখান থেকে প্রহরীরা সীমান্ত পাহারা দিত। এক চৌকি পেরিয়ে দ্বিতীয় চৌকি এভাবে অনেক চৌকি রয়েছে। মাঝেমধ্যে এক চৌকি অন্য এক চৌকি মাঝখানে আরও খাড়া সিঁড়ি পেরোতে হয়। প্রাচীরের ওপরে উঠে অনেক দূরের পাহাড়, বন-জঙ্গল দেখা যায়। প্রাচীর অনেকটা আঁকাবাঁকাভাবে উঠে গেছে। আবার অন্য পাশ থেকে নেমে গেছে।

            ডিসেম্বরে তীব্র শীত উপেক্ষা করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকরা আসেন মহাপ্রাচীর দেখতে। পর্যটকের কমতি নেই। তবে গ্রীষ্ম আর বসন্তে সারা বিশ্ব থেকে আরও বেশি পর্যটক আসেন এ প্রাচীর দেখতে। এক সময় ওপর থেকে নামতে হয়। উঠতে যতটা কষ্ট, নামতে তেমন কষ্ট হয় না। নিচে প্রবেশ পথের পাশে গ্রেটওয়াল মিউজিয়াম। মিউজিয়ামটি ঘুরে দেখা যায়। সেখানে প্রাচীর নির্মাণের ইতিহাস ডিজিটাল স্ক্রিনে তুলে ধরা হয়। এভাবে ভ্রমন পিপাষু ও পর্যটকরা মহাপ্রাচীরকে দেখে বিদায় জানায়।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *