আদিবাসী দিবস উপলক্ষ্যে সেমিনার: সংবেদনশীল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি

জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশকে একটি সংবেদনশীল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। রোববার (১৮ আগস্ট) সিরডাপ মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষ্যে আদিবাসীদের সার্বিক নিরাপত্তা, ভূমিসহ মৌলিক ও মানবাধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্র ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর দায়িত্ব শীর্ষক এক সেমিনারে আলোচকরা এ দাবি জানান।

            সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, আদিবাসী জনগণের ওপর যে নিপীড়ন করা হয় তা অমর্যাদাকর। আমরা ধর্ম, লিঙ্গ, জাতি, ভাষা নিরপেক্ষ একটি গণতান্ত্রিক সংবেদনশীল রাষ্ট্র চাই। যেখানে আমরা অন্যায়কে না বলবো।

            জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভানেত্রী বিচিত্রা তিরকী বলেন, নিপীড়ন থেকে আদিবাসীদের রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন পৃথক ভূমি কমিশন, আদিবাসী মন্ত্রণালয় এবং সংসদে আদিবাসী নারী প্রতিনিধিত্ব। পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের ওপর এ ধরনের নিপীড়ন বন্ধে প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেবো।

            ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, আদিবাসীদের মানবাধিকার সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এবারের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুধু ছাত্রদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তা ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। এ আন্দোলনে সকল শ্রেণির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলে এটি সফল হয়েছে এবং অত্যাচারী শাসনামলের অবসান ঘটেছে।

            ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ।বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের যে স্বপ্ন ছাত্রজনতা আন্দোলন সফল করার মধ্য দিয়ে দেখেছে তা নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্র কাঠামোকে ঢেলে সাজানোর মনোযোগী হতে হবে। তিনি বলেন, মূল শ্রোতধারায় আদিবাসী নারীর অংশগ্রহণ খুব জরুরি। কর্তৃত্ববাদী সরকার পতনের পরে আদিবাসী ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টিতে সঠিক চিত্র তুলে ধরার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য তদন্ত প্রত্যাশা করছি।

            এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, বৈষম্য শুধু শিক্ষার ক্ষেত্র নয়, বিদ্যমান সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করার জন্য সকল প্রতিনিধিদের কাছ থেকে মতামত গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে সংবেদনশীল করার জন্য জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে সংলাপ আয়োজনের বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।

            এএলআরডির চেয়ারপারসন খুশী কবির বলেন, বর্তমানে দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে। এ সেমিনারের মধ্য আদিবাসীদের যেসব প্রত্যাশা ও দাবি-দাওয়া ওঠে এসেছে তা যেন বর্তমান সরকার আমলে নিয়ে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয় সেজন্য তাদের কাছে প্রত্যাশা করছি।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *