আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুদ্ধক্ষেত্রে একের পর এক সামরিক বিপর্যয় ঘিরে সামরিক নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন এক জেনারেল নিয়োগ দিয়েছে রাশিয়া। ক্রিমিয়া উপদ্বীপের সাথে সংযুক্তকারী রাশিয়ার একমাত্র সেতুতে বিস্ফোরণ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি-ক্ষয়ক্ষতির পর এই সেনা জেনারেল নিয়োগ করা হয়েছে। ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযানের এলাকায় জয়েন্ট গ্রুপিং অব ফোর্সের কমান্ডার জেনারেল সের্গেই সুরোভিকিনকে নিয়োগ করা হয়। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, নতুন নিয়োগকৃত জেনারেল সের্গেই সুরোভিকিনের (৫৫) জন্ম সাইবেরিয়া অঞ্চলের নোভোসিবিরস্ক এলাকায়। নব্বইয়ের দশকের তাজিকিস্তান, চেচনিয়াসহ অন্যান্য যুদ্ধের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। সর্বশেষ ২০১৫ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অন্যতম মিত্র সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সমর্থনে সিরীয় ভূখণ্ডে নিযুক্ত ছিলেন তিনি।

            সম্প্রতি ইউক্রেনের কাছ থেকে দখলে নেওয়া অঞ্চলগুলোকে রাশিয়ার ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা দেয় মস্কো। কিন্তু এসব অঞ্চলে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর পাল্টা প্রতিরোধে রুশ সৈন্যরা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেন যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নতুন করে জেনারেল নিয়োগ করেছে মস্কো। যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন জেনারেল নিয়োগের পর ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক মিসাইল হামলা শুরু করেছে রাশিয়া। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক্রিমিয়ার সেতুতে হওয়া বিস্ফোরণকে সন্ত্রাসী হামলা ঘোষণা করার পর রাশিয়া প্রতিশোধমূলক হামলায় ইউক্রেনজুড়ে শহরগুলোতে মিসাইল হামলা করেছে। রাজধানী কিয়েভের পাশাপাশি ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভ, টারনোপিল ও জাইটোমির এবং মধ্য ইউক্রেনের ডিনিপ্রো ও ক্রেমেনচুকেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

            এদিকে একজন প্রত্যক্ষদর্শী রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগোরোড অঞ্চলে বিস্ফোরণের কথা জানিয়েছেন এটা জানিয়েছে রয়টার্স। কিয়েভের ব্যস্ততম সড়ক জংশনগুলোর একটিতে মিসাইল হামলার পর একটি বিশাল গর্ত দেখা দিয়েছে। সেখানে গাড়ি ধ্বংস হয়েছে, ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জরুরি কর্মীরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। গর্তের কাছে দু’টি গাড়ি এবং একটি ভ্যান সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া হামলার পর কিয়েভের প্রধান তারাস শেভচেঙ্কো ইউনিভার্সিটির ভবনের জানালা উড়ে গেছে। ইউক্রেনের ন্যাশনাল গার্ড সৈন্যরা সম্পূর্ণ যুদ্ধের সরঞ্জামে এবং অ্যাসল্ট রাইফেল নিয়ে কিয়েভের একটি শিক্ষা ইউনিয়ন ভবনের বাইরে অবস্থান করতে দেখা যায়।

            সোশ্যাল মিডিয়াতে দেওয়া এক পোস্টে কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো বলেছেন, রাজধানী রাশিয়ান সন্ত্রাসীদের আক্রমণের মধ্যে রয়েছে। রুশ ক্ষেপণাস্ত্র শহরের কেন্দ্রস্থলে (শেভচেঙ্কিভস্কি জেলায়) এবং সোলোমিয়ানস্কি জেলায় বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। বিমান হামলার সাইরেন বাজছে এবং হামলার হুমকি অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কিয়েভের কেন্দ্রীয় রাস্তাগুলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা অবরুদ্ধ করে দিয়েছে। উদ্ধারকারী পরিষেবাগুলো কাজ করছে।

            বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের সামরিক প্রধান বলেছে, সোমবার ইউক্রেনজুড়ে হামলার সময় অন্তত ৭৫টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এদিকে পশ্চিমাঞ্চলীয় টারনোপিল এবং লভিভে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করেছে। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর শহরের কিছু অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। এছাড়া সুমি, জাইটোমির, খমেলনিতস্কি এবং কিরোভোহরাদ অঞ্চলেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

            গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়ান সৈন্যরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী স্থল, আকাশ ও সমুদ্র পথে ইউক্রেনে এ হামলা শুরু করে। একসঙ্গে তিন দিক দিয়ে হওয়া এ হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পড়েছে বৃষ্টির মতো। মস্কো অবশ্য ইউক্রেনে তাদের এ আগ্রাসনকে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ আখ্যায়িত করছে।

খবরটি 203 বার পঠিত হয়েছে


আপনার মন্তব্য প্রদান করুন

Follow us on Facebookschliessen
oeffnen