ফিচার ডেস্ক: বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর কলকাতায় প্রথম যেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল তা ছিল দক্ষিণ কলকাতার ৫৭/৮ বালিগঞ্জ প্যালেস। যেটি বর্তমানে গুপ্তা হাউস নামে পরিচিত। স্বাধীনতা ঘোষণা দেওয়ার পর ভবনের দোতলায় ১৯৭১-এর ২৫শে মার্চ থেকে থাকতে শুরু করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ মত নেতৃবৃন্দরা। ঠিক তার পাশের কক্ষে গড়ে ওঠে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। এরপর নেতৃত্বরা ঠিক করেন স্বাধীনতার কার্যক্রম স্থানান্তরিত করা হবে। ঠিক হয় মধ্য কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে অস্থায়ী কার্যক্রম চালাবেন তারা। বর্তমানে যে ভবনটির নাম, অরবিন্দ ভবন। তবে স্বাধীনতার কার্যক্রম স্থানান্তরিত হলে বেতার কেন্দ্র কিন্তু থেকে গেল বালিগঞ্জের ৫৭/৮ ঠিকানাতে। বিজয় দিবসের আগ পর্যন্ত সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের দ্বারা মুক্তিযোদ্ধাদের মানসিক শক্তি যোগাতো কলকাতার এই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। তবে ইতিহাসের পাতায় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র কথা লেখা থাকলে তার আর কোনো অস্তিত্ব নেই। ঠিক তেমনি মলিন হয়ে গেছে ৮ নম্বর থিয়েটার রোড। ব্যক্তিগত মালিকানার কারণে যেমন গুপ্তা হাউসের ভেতরে প্রবেশ নিষিদ্ধ। তেমনি ৮ নম্বর থিয়েটার রোড ট্রাস্টের আওতায় চলে যাওয়ায় এখানে প্রবেশ করা যায় না। অস্তিত্ব না থাকলে মুক্তিযুদ্ধের দলিল হিসেবে শুধু ঠিকানাগুলো রয়ে গেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস।

            বেতার কেন্দ্র গড়ে ওঠার বিষয়ে কলকাতাস্থিত বাংলাদেশ উপদূতাবাসের প্রেস সচিব মোফাকখারুল ইকবাল বলেন, চিটাগাঙে পাকিস্তানি আক্রমণের কারণে স্বাধীনতার কার্যালয় চলে আসে ত্রিপুরার বাফালগাঁর জঙ্গলে। কিন্তু সেখানে যখন বোমা হামলা শুরু হয় তখন ১৯৭১-এর ২৫শে মার্চ স্থানান্তরিত হয় কলকাতায়। ততদিনে নেতৃবৃন্দরা ঠিক করে ফেলেন অস্থায়ীভাবে স্বাধীনতার কার্যক্রম চালাবেন থিয়েটার রোডে। অরবিন্দ ভবন ছিল বাংলাদেশ স্বাধীনতার অস্থায়ী প্রধান কার্যালয়। আর যেটা বাংলাদেশ মিশন, সেখানে ছিল তিনটা মন্ত্রণালয় অর্থ, তথ্য আর পররাষ্ট্র। আর বাকি সকল মন্ত্রণালয় ছিল অরবিন্দ ভবনে। তিনি বলেন, তখন এই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এখান থেকে গান, কবিতাসহ খবর পাঠ হতো বাংলা এবং ইংরেজি ভাষায়। এখান থেকে রেকর্ড করে নিয়ে গোপনে বাংলাদেশের কাছে পাঠানো হতো যাতে মুক্তিযোদ্ধারা শুনতে পারেন। ভারত সরকার যে কি সহযোগিতা করেছে তা সব ভাষায় প্রকাশ করার নয়।

            কলকাতার সাবেক সাংবাদিক তথা মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা প্রাপক দিলীপ চক্রবর্তী বলেন, অনেকে অনেক কথা বলে। তবে ভারত হলো বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। এ সম্পর্ক কোনো তরফ নষ্ট হতে দেবে না। মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ভূমিকা ছিল অপরিসীম। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র গড়ে তোলায় ভারত সরকারের বড় সহযোগিতা ছিল। কবিতা, গানসহ প্রতিদিনের খবর কি হবে তা এখানে তৈরি হত। তবে কিভাবে কোথায় কোন ট্রান্সমিটারের সাহায্যে এ খবর পৌছে যেত তা আমি প্রকাশ্যে বলতে পারবো না। তবে একটু বলতে পারি মুক্তিযুদ্ধে আকাশবাণী বেতার কেন্দ্র বড় ভূমিকা ছিল। তিনি বলেন, সে যাই হোক, বঙ্গবন্ধু তখন জেলে। অন্যদিকে খান সেনাদের উৎকণ্ঠায় ভরিয়ে তুলেছেন মুক্তিসেনারা। আর সেই মুক্তিবাহিনীকে গান, কবিতা, খবরের মধ্য দিয়ে, দুই বাংলার শিল্পীরা মানসিক শক্তি যোগাতেন কলকাতার এই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। বঙ্গবন্ধু বুঝেছিলেন স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ। তা যে সে ব্যাপার নয়। তাও আবার সশস্ত্র পাকিস্তানী সেনার বিরুদ্ধে। বাংলাদেশবাসীকে মানসিক ভাবে শক্তপোক্ত করতে চেয়েছিলেন তিনি। নেতৃত্বরা সে কাজ করে গেছেন।

খবরটি 108 বার পঠিত হয়েছে


আপনার মন্তব্য প্রদান করুন

Follow us on Facebookschliessen
oeffnen