
স্টাফ রিপোর্টার, বান্দরবান: বান্দরবানে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের ঈদ পুনর্মিলনী আয়োজন করা হয়। সোমবার দুপুর ১২ ঘটিকায় শহরের মেঘদূত আর্মি ক্যান্টিনে ঈদ পুনর্মিলনী আয়োজন করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে এনসিপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেছে। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিল এনসিপি চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দীন। প্রধান আলোচক ছিল বান্দরবান পার্বত্য জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর এস এম আব্দুস ছালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আবুল কালাম। আরো উপস্থিত ছিল এনসিপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ। এ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেছে এনসিপি সিনিয়র সদস্য সচিব লুক চাকমা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দীন বলেছে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। সীমিত কয়েকজন ব্যক্তির সিদ্ধান্তের ওপর রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে জনগণ যে উন্নয়ন ও কার্যকর প্রশাসন প্রত্যাশা করেছিল, তার প্রতিফলন এখনও দৃশ্যমান নয়। সুজা উদ্দীন আরো বলেছে, দেশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে শুরু করে সমতল ও পার্বত্য এলাকাতে জনগণের প্রত্যাশিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেখা যাচ্ছে না। জনগণের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রধান আলোচক এস এম আব্দুস ছালাম আজাদ বলেছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন উদ্বেগজনক। দেশে হত্যা, সহিংসতা ও বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধকে দুর্বল করে দিচ্ছে। আব্দুস ছালাম আরও বলেছে, অতীতের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার পরিবর্তে জনগণের বাস্তব সমস্যার সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। জনগণ উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা চায়ে।
বিশেষ অতিথি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আবুল কালাম বলেছে, জেলায় বিভিন্ন খাতে সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও তার যথাযথ ব্যবহার নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে প্রদত্ত বিশেষ বরাদ্দের অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।
এনসিপি বান্দরবান জেলা আহ্বায়ক মং সা প্রু বলেছে, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১১ দলীয় জোটকে আরও সুসংগঠিত করতে হবে। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছে। পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

