
স্টাফ রিপোর্টার, বান্দরবান: বান্দরবানের থানচি উপজেলায় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ৫ বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ শিশুকে ধর্ষণ করে বিজয় বড়ুয়া (১৫) নামে এক কিশোর। রবিবার (২৪ মে) সকালে উপজেলা সদরের নতুনপাড়া এলাকায় এ শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিজয় বড়ুয়াকে আটক করে থানচি থানা পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয়রা। ধর্ষণের খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত স্থানীয় জনতা ধর্ষকের কঠোর শাস্তির দাবিতে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ ঘটনার পর বিজিবি পুলিশকে সহায়তার জন্য থানায় অবস্থান নিয়ে স্থানীয়দের শান্ত করে। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৩ মে) দুপুরে থানচি সদর ইউনিয়নের নতুন পাড়া এলাকায় সবজি বিক্রেতা বিজয় বড়ুয়া নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে প্রতিবেশী ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় শিশুটি তীব্র যন্ত্রণায় কাঁদলে পরিবারের কাছে ঘটনাটি খুলে বলে। এরপর শিশুটির মা-বাবা বিজয় বড়ুয়ার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সে কোনো উত্তর দিতে পারে না। রোববার সকালে ধর্ষণের ঘটনাটি পুরো এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত বিজয় বড়ুয়াকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে থানায় সোপর্দ করে। অভিযুক্ত বিজয় বড়ুয়া থানচি সদরের নতুন পাড়া এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনার প্রতিবাদে উত্তেজিত জনতা থানচি থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, এক ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের শিশুকে ধর্ষণের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার উত্তেজিত জনতা থানার সামনে এসে হট্টগোল শুরু করে এবং সকাল থেকে দীর্ঘক্ষণ থানা ঘেরাও করে রাখে। পরবর্তীতে বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাসে উত্তেজিত জনতা ঘেরাও কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়।
থানচি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অংপ্রু ম্রো বলেছে, নতুন পাড়া এলাকায় ৫ বছরের এক ত্রিপুরা কন্যা শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত বিজয় বড়ুয়াকে ইতোমধ্যে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
থানচি বিজিবি জোন কমান্ডার বলেছে, আমার চোখে কোন পাহাড়ি বাঙালি নাই, অপরাধী মানে অপরাধী, এ বিষয়ে অপরাধীর সবোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। উত্তেজিত জনতা থানা ঘেরাও করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে সহায়তার জন্য বিজিবি মোতায়েন করা হয়। পরে বিজিবি সহযোগিতায় অভিযুক্ত আসামিকে বান্দরবান জেলা আদালতে পাঠায় পুলিশ।
থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি কানন সরকার বলেছে, সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে শিশুর অভিভাবক থানায় ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত কিশোরকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটিকে শারীরিক পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

