সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ, রাজধানীতে ২৫০ ইলেক্ট্রিক বাস: প্রধান মন্ত্রীর ১২ দফা মহাপরিকল্পনা

জাতীয় ডেস্ক: রাজধানী ঢাকা একটি আধুনিক, দূষণমুক্ত এবং আন্তর্জাতিক মানের ‘ক্লিন এবং গ্রিন সিটি’ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ১২ দফার এক সুদূর প্রসারী কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে প্রধান মন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। সরকারের এ বিশাল প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো তিলোত্তমা রাজধানীকে সবুজে আচ্ছাদিত করা এবং উন্নত বিশ্বের মতো পরিবেশ বান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এর অংশ আগামী পাঁচ বছরে ঢাকা ও সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণের পাশাপাশি রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে ২৫০ টি অত্যাধুনিক ইলেক্ট্রিক বাস নামানোর ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান মন্ত্রী এ রূপরেখা তুলে ধরেছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনের শুরুতে নির্ধারিত প্রধান মন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি রাজধানীর উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়।

            প্রধান মন্ত্রী জানায়, ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সমন্বিত কাজ শুরু করেছে। বিশেষ করে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) যৌথভাবে ইলেকট্রিক বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। যা নগরীর কার্বন নিঃসরণ বহুগুণে কমিয়ে আনবে। বায়ুদূষণের প্রধান উৎসগুলো চিহ্নিত করতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে এবং অবৈধ ইটভাটা বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া ঢাকার অদূরে সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে সেখানে উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য পোড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নদী ও খালের দূষণ রোধে ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি রিয়েল টাইম পর্যবেক্ষণের জন্য অনলাইন ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।

            সবুজায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধান মন্ত্রী বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন সড়ক দ্বীপ ও উন্মুক্ত স্থানে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ‘মিয়াওয়াকি ফরেস্ট’ বা নগর বনায়ন পদ্ধতিতে শূন্য মাটি ঢেকে দেওয়ার কাজ চলছে। আধুনিক নগরায়নের নতুন অংশ মেট্রোরেলের মিরপুর-১২ থেকে ডিওএইচএস পর্যন্ত নিচের খালি জায়গা এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আবদুল্লাহপুর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত নিচের বিশাল এলাকা পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজে সজ্জিত করা হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিকতা আনতে দক্ষিণ সিটির মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে একটি সমন্বিত সার্কুলার ইকোনমি ও জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যেখানে সব বর্জ্যকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পদে পরিণত করা হবে। এ সব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঢাকা একটি স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর নগরী আত্মপ্রকাশ করবে।

            জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছে, আমি সুপ্রিম কোর্টের সর্বোচ্চ আদালতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলাম। যে কোনো মৃহুর্তে আমার ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা হতো । ঠিক সে মুহূর্তে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিপ্লব বলি অথবা অভ্যুত্থান বলি তার মাধ্যমে আমার মুক্তির পথ সুগম হয়। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলা হয়। বিএনপি দাবি করে মুক্তিযুদ্ধের দল অথচ বিএনপি প্রতিষ্ঠা হয়েছে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর, আর মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে ১৯৭১ সালে। বিএনপি কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের দল হতে পারে। তাহলে এটা কীভাবে আমি মূল্যায়ন করব। বিএনপি মুক্তিযোদ্ধা আছে, এটা আপনি বলা যায়। তদ্রুপ জামায়াতে ইসলামীতে মুক্তিযোদ্ধা আছে।

            আইন মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০২৬ এ নির্ধারণ করা হয়েছে। সে সংশোধনীতে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর তৎকালীন মুসলিম লীগ, তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী, তৎকালীন নেজামে ইসলামী এবং আলবদর, আলসামস বাহিনী ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের যে সমস্ত দামাল ছেলে, যারা সংগ্রাম করেছে, তাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা… আইন এ সংসদে পাস হয়েছে। সে আইনে জামায়াতে ইসলামী কার্যত বিরোধিতা করেনি। এনসিপি পক্ষ থেকে লিখিতভাবে অনুসমর্থন জানানো হয়েছে। এ জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বাই অপারেশন অব ল’ অ্যান্ড ইন্টারপ্রিটেশন, তাহলে এটা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল যে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কারা বিরোধিতা করেছিল, কারা খুন, গুম ও ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ছিল, কারা বাংলাদেশের অসংখ্য ও অগণিত মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিল।

            তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ২০২৪ সালের আন্দোলন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে আদর্শিক বিতর্ক বিদ্যমান। এ বিতর্কের মূল কারণ আদর্শগত পার্থক্য। ধর্ম, স্বাধীনতার চেতনা বা আন্দোলনের ইতিহাসকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়। এ সব বিষয় রাজনৈতিক আচরণে প্রভাব ফেলছে।

            বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম বলেছে, জুলাই বিপ্লবকে ৭১ মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করা হয়, তখন এ মহান মুক্তিযুদ্ধ ছোট হয়ে যায়। বাংলাদেশ খাটো হয়ে যায়। আমরা লজ্জিত হই। মুক্তিযুদ্ধ কোনো পলিটিক্যাল মেটাফর না, এটা আমাদের অস্তিত্ব।

            মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান বলেছে, মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও গণহত্যার শিকার ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা স্বাধীনতার এত বছরেও তৈরি করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে একটি নির্ভুল গ্রহণযোগ্য তালিকা করা হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণহত্যার শিকার ও সব শহীদের একটি নির্ভুল, গ্রহণযোগ্য তালিকা প্রণয়ন করা হবে। এর মাধ্যমে তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা দেওয়া সম্ভব হবে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেটভুক্ত শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৬ হাজার ৪৮০ জন। সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সুপারিশে ২০১০ থেকে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৭৬ জনের গেজেট/ লাল মুক্তিবার্তা/ ভারতীয় তালিকা বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বাতিল হয়েছে ৪৮১ জন।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *